Headlines

মালদায় চালু হোল্ডিং সেন্টার, ৯ বাংলাদেশি নাগরিককে আনা হল; এবার কি তবে প্রত্যাবর্তন?

মালদায় চালু হোল্ডিং সেন্টার, ৯ বাংলাদেশি নাগরিককে আনা হল; এবার কি তবে প্রত্যাবর্তন? Photo by Ahmed akacha on Pexels

মালদা, পশ্চিমবঙ্গ: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্দেশনার পর মালদায় চালু হলো হোল্ডিং সেন্টার। ইংরেজবাজারের এই নতুন সেন্টারে ইতিমধ্যেই ৯ জন বাংলাদেশি নাগরিককে রাখা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩ জন মহিলা এবং ৬ জন নাবালক ও নাবালিকা রয়েছে। এদের গাজোল এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। রাজ্যের নতুন সরকার গঠনের মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আটক ও রাখার জন্য জেলাগুলিতে হোল্ডিং সেন্টার স্থাপনের নির্দেশ জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতর।

শুক্রবার ফরেনার্স ব্রাঞ্চের পক্ষ থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের এই বিষয়ে একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। নির্দেশিকায় ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ২ মে ২০২৫-এর একটি চিঠির উল্লেখ করে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যা জেলাগুলিতে হোল্ডিং সেন্টার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা ও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের উপর জোর দেয়।

এই পদক্ষেপের বিষয়ে উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলেছেন, “আমাদের ভারতীয় নাগরিক নন, এমন সমস্ত ব্যক্তি আমাদের দেশ থেকে তাঁদের নিজের দেশে ফিরতে বাধ্য। এটি অত্যন্ত জরুরি। আমাদের রাজ্য এবং দেশকে সুরক্ষিত করতে হবে। এতদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেস আমাদের রাজ্যকে রোহিঙ্গা, সন্ত্রাসী এবং জিহাদিদের করিডোর হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ করে দিয়েছে।”

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ‘অনুপ্রবেশে জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা ঘোষণা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আমরা ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট এই নীতির মাধ্যমে প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে বের করে বাংলার বাইরে পাঠানোর ব্যবস্থা করব।” এই নীতি অনুসরণ করেই বিজেপি সরকার এগোচ্ছে বলে জানা গেছে।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন প্রচারের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছিলেন। এছাড়াও, রাজ্যের নবনির্বাচিত বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর মুখেও একই বার্তা শোনা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আটক বিদেশি নাগরিক এবং দেশে ফেরত পাঠানোর অপেক্ষায় থাকা মুক্তিপ্রাপ্ত বিদেশি বন্দিদের জন্য জেলাগুলিতে হোল্ডিং সেন্টার স্থাপন করা প্রয়োজন। এর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই নতুন ব্যবস্থা অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ ও তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে রাজ্যের নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং অবৈধ বসবাসকারীদের উপর লাগাম টানা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *