দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেই সাধারণ মানুষের পকেটে বড় ধাক্কা দিয়ে আরও একবার বাড়ল পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। আজ কলকাতায় লিটার প্রতি পেট্রোলের দাম ২ টাকা ৮৭ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ২ টাকা ৮০ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১১ দিনের মধ্যে এই নিয়ে চতুর্থবার জ্বালানির দাম বাড়ানো হলো, যার ফলে রাজধানীসহ সমস্ত মহানগরে পেট্রোলের দাম সেঞ্চুরি পার করেছে। তেল বিপণন সংস্থাগুলোর এই সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে।
টানা মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারের ভারসাম্যের দোহাই দিয়ে দফায় দফায় বাড়ানো হচ্ছে জ্বালানির দাম। গত ১১ দিনে মোট চারবার এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর করা হয়েছে। ১৫ মে থেকে শুরু হওয়া এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সাধারণ মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে পণ্যবাহী পরিবহনের প্রধান জ্বালানি ডিজেলের দাম যেভাবে ১০০ টাকার দোরগোড়ায় পৌঁছেছে, তাতে উদ্বেগের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।
মহানগরীগুলোতে জ্বালানির নতুন হার
কলকাতায় বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি অনুযায়ী পেট্রোলের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ১১৩ টাকা ৫১ পয়সা এবং ডিজেল বিকোচ্ছে ৯৯ টাকা ৮২ পয়সায়। দিল্লির চিত্রটিও উদ্বেগজনক, সেখানে পেট্রোল ১০২.১২ টাকা এবং ডিজেল ৯৫.২০ টাকা। মুম্বইতে পেট্রোলের দাম ১১১.২১ টাকা এবং চেন্নাইতে ১০৭.৭৭ টাকা। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, দেশের চারটি প্রধান মহানগরীর প্রতিটিতেই পেট্রোলের দাম ১০০ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে অনেক উপরে উঠে গিয়েছে।
পরিসংখ্যান ও পূর্ববর্তী বৃদ্ধির খতিয়ান
তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, গত ১১ দিনে পেট্রোলের মোট দাম বেড়েছে ৮ টাকা ৬ পয়সা এবং ডিজেলের দাম বেড়েছে ৭ টাকা ৮০ পয়সা। ১৫ মে পেট্রোলের দাম বেড়েছিল ৩.২৯ টাকা, ১৯ মে বেড়েছে ৯৬ পয়সা এবং ২৩ মে আরও ৯৪ পয়সা। ডিজেলের ক্ষেত্রেও একই রকম উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পণ্যবাহী ট্রাক এবং গণপরিবহনের ওপর প্রভাব ফেলবে।
পরিবহন খাতে প্রভাব ও জনজীবন
এই দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাস মালিকরা ভাড়া বাড়ানোর দাবি তুলতে শুরু করেছেন। বেসরকারি বাস সংগঠনগুলোর মতে, লিটার প্রতি ১০০ টাকার কাছাকাছি ডিজেল দিয়ে বর্তমান ভাড়ায় পরিষেবা বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। সাধারণ বাইক ও গাড়ি চালকদের জন্য যাতায়াত এখন বিলাসিতার পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি বাজারে সবজি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনাও প্রবল হয়ে উঠেছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও নজরদারি
আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের গতিপ্রকৃতি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কর কাঠামোর কোনো পরিবর্তন হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশেষজ্ঞ মহল। যদি এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকে, তবে দেশের সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির হার আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সাধারণ মানুষ এখন তাকিয়ে আছেন সরকারের হস্তক্ষেপের দিকে, যাতে নিত্যদিনের খরচ কিছুটা হলেও আয়ত্তের মধ্যে থাকে।