আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও ইজ়রায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষে প্রস্তাবিত ‘অ্যাব্রাহাম চুক্তি’তে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। গত সপ্তাহে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, স্বাধীন প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র গঠন না হওয়া পর্যন্ত ইজ়রায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া পাকিস্তানের ‘মৌলিক আদর্শে’র পরিপন্থী। মূলত আমেরিকার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার প্রবল আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এবং দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির কারণে ট্রাম্পের এই বিশেষ অনুরোধে সাড়া দিতে পারল না শাহবাজ শরিফ সরকার।
অ্যাব্রাহাম চুক্তি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
২০২০ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আমেরিকার মধ্যস্থতায় ‘অ্যাব্রাহাম চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়, যা ইজ়রায়েল এবং বেশ কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে কয়েক দশকের কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে সহায়ক হয়েছিল। ইহুদি, খ্রিস্টান এবং মুসলিম—এই তিন ধর্মের অভিন্ন পূর্বপুরুষ হযরত ইব্রাহিম (আঃ) বা অ্যাব্রাহামের নামে এই চুক্তির নামকরণ করা হয়। প্রাথমিকভাবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং বাহরাইন এই চুক্তিতে সই করে এবং পরবর্তীতে মরক্কো ও সুদানও এতে যোগ দেয়। এই চুক্তির লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ইজ়রায়েলের অস্তিত্বকে মুসলিম বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা।
পাকিস্তানের অনড় অবস্থান ও খোয়াজা আসিফের বক্তব্য
সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ওয়াশিংটন সফর এবং ট্রাম্পের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার পর আন্তর্জাতিক মহলে গুঞ্জন উঠেছিল যে, ইসলামাবাদ হয়তো তাদের ইজ়রায়েল নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে। তবে পাকিস্তানের সামা টিভিকে (Samaa TV) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ সেই জল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছেন। তিনি বলেন,