বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের পদক্ষেপ
ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (IOA) ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে এবার সক্রিয় হয়েছে বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন। সম্প্রতি সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় (বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়) এবং সুজিত বসুকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়ে একাধিক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাটি রাজ্যের ক্রীড়া মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে, কারণ অভিযুক্তরা দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া সংস্থার শীর্ষে আসীন ছিলেন।
প্রেক্ষাপট ও অভিযোগের স্বরূপ
বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি একই সঙ্গে একাধিক ক্রীড়া সংস্থার শীর্ষ পদে থাকতে পারেন না। অভিযোগ উঠেছে যে, বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সচিব, রাজ্য টেবিল টেনিস সংস্থার প্রেসিডেন্ট, রাজ্য হ্যান্ডবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এবং রাজ্য কবাডি অ্যাসোসিয়েশনের সচিবের মতো একাধিক দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, ধৃত প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু রাজ্য জুডো অ্যাসোসিয়েশন ও হকি বেঙ্গলের প্রেসিডেন্ট পদে রয়েছেন।
সংগঠনের অবস্থান ও আইনি জটিলতা
বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সচিব জরর দাস জানিয়েছেন, নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এই নিয়ম কার্যকর করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, শুধুমাত্র বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় বা সুজিত বসু নয়, নিয়ম অমান্যকারী সকলকেই চিঠি দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
হরিশ পার্কের দখলদারিত্বের অবসান
ক্রীড়া সংস্থার বাইরেও কলকাতার হরিশ পার্কের ক্লাব দখল নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরে হরিশ পার্ক ব্যায়াম সমিতি ও সংলগ্ন পার্কটি ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পার্কের ব্যাডমিন্টন কোর্টটি শুধুমাত্র পরিবারের ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত ছিল এবং সাধারণের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ৪ঠা মে-র পরবর্তী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ও ক্লাবের প্রাক্তন সদস্যরা তালা ভেঙে পুনরায় ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছেন।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পর্যবেক্ষণ
এই ধরণের প্রশাসনিক পদক্ষেপ রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামোয় বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করেন, তবে বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন আরও কড়া আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে বলে সূত্রের খবর। অন্যদিকে, হরিশ পার্কের মতো ক্লাবগুলোর দখলমুক্ত হওয়ার ঘটনাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, স্থানীয় স্তরে সাধারণ মানুষ এখন ক্রীড়া ক্লাবগুলোর স্বচ্ছ পরিচালনা নিশ্চিত করতে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেষ্ট। আগামী দিনে এই ক্রীড়া সংস্থাগুলো কীভাবে তাদের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করে এবং হরিশ পার্কের মতো বিতর্কিত স্থানগুলোর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কীভাবে সুনিশ্চিত হয়, তা এখন দেখার বিষয়।