জনপ্রিয় চলচ্চিত্র পরিচালক অনীক দত্তের অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে। গত কাল কলকাতায় নিজ স্ত্রীর আবাসনের ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় তাঁর। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, এটি আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে হাতের লেখা যাচাইসহ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও তদন্তের মোড়
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুর নাগাদ এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরিচালককে দ্রুত কাছের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে এসএসকেএম হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। অনীক দত্তের ব্যক্তিগত জীবন ও মানসিক অবস্থা নিয়ে তদন্তকারীরা বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ঘটনার পুনর্নির্মাণও করেছে যাতে ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হয়।
শেষকৃত্যের পরিবর্তিত সময়সূচি
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ নন্দনে পরিচালকের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর কথা থাকলেও, পরিবারের পক্ষ থেকে তা স্থগিত করা হয়েছে। অনীক দত্তের একমাত্র কন্যা সুইডেন থেকে ফেরার অপেক্ষায় থাকায় শেষকৃত্যের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁর মরদেহ পিস ওয়ার্ল্ডে রাখা হয়েছে এবং আগামীকাল পর্যন্ত সেখানেই থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ
পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামীকাল এনটি ওয়ান স্টুডিওর চতুর্থ তলায় সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পরিচালকের মরদেহ শায়িত থাকবে। এটি তাঁর গুণমুগ্ধ, সহকর্মী ও বন্ধুবান্ধবদের জন্য শেষ শ্রদ্ধা জানানোর আনুষ্ঠানিক সময়। এরপর কঠোর গোপনীয়তায় পরিবারের উপস্থিতিতে ক্যাওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
শিল্পমহলে প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পর্যবেক্ষণ
অনীক দত্তের এই আকস্মিক প্রয়াণ বাংলা চলচ্চিত্র জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোর শৈল্পিক আবেদন ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি দীর্ঘকাল দর্শকদের মাঝে অমলিন থাকবে। এখন দেখার বিষয়, পুলিশি তদন্তে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী বেরিয়ে আসে এবং তাঁর অসম্পূর্ণ কাজ বা সৃষ্টিশীল ভবিষ্যতের উপর এটি কী প্রভাব ফেলে। আগামী কয়েক দিনে তদন্তের অগ্রগতি এবং শেষকৃত্য ঘিরে ভক্তদের আবেগ ও পরিস্থিতির ওপরই নজর থাকবে সবার।