পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি ও রসুলপুর রেলগেটে যানজট নিরসনে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত উড়ালপুল তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্রশাসন। বুধবার রেল ও রাজ্য প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা যৌথভাবে এলাকা পরিদর্শন করেন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন মেমারির বিধায়ক মানব গুহ। জিটি রোডের ওপর অবস্থিত এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেলগেট দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ও নিত্যযাত্রীদের যাতায়াতের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
পটভূমি ও বর্তমান পরিস্থিতি
বর্ধমান-হাওড়া মেন লাইনের ওপর অবস্থিত মেমারি ও রসুলপুর রেলগেট দুটি অত্যন্ত ব্যস্ত। প্রতিদিন অসংখ্য লোকাল ও দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল করার কারণে রেলগেটগুলি দীর্ঘসময় বন্ধ রাখতে হয়, যা জিটি রোডে তীব্র যানজটের সৃষ্টি করে। তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে মেমারিতে উড়ালপুলের জন্য গাছ কাটার কাজ শুরু হলেও দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্পটি থমকে ছিল।
জনদুর্ভোগ ও প্রকল্পের গুরুত্ব
রেলগেট বন্ধ থাকার ফলে মেমারি ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগের শিকার হন। বিশেষ করে জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে, অ্যাম্বুলেন্সগুলি দীর্ঘক্ষণ গেটে আটকে থাকায় রোগীদের চিকিৎসা পেতে বিলম্ব ঘটে। রসুলপুর ও মেমারিতে উড়ালপুল নির্মিত হলে বর্ধমান শহরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন দ্রুত হবে, তেমনি স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও গতি আসবে।
প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রত্যাশা
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই দুটি স্থানে চার লেনের উড়ালপুল তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বর্ধমানের সাথে দূরত্বের ব্যবধান অনেকটাই কমে আসবে এবং মেমারি শহরের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে। রেল ও রাজ্য প্রশাসনের এই যৌথ পরিদর্শন প্রকল্পটির কাজ দ্রুত শুরুর ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
ভবিষ্যৎ প্রভাব
প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে পূর্ব বর্ধমানের পরিবহন পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আসবে। এখন দেখার বিষয়, কত দ্রুত আইনি ও প্রযুক্তিগত বাধা পেরিয়ে এই নির্মাণ কাজ বাস্তবে রূপ নেয়। আগামী দিনে প্রকল্পটির বাজেট বরাদ্দ এবং কাজের অগ্রগতিই নির্ধারণ করবে কবে নাগাদ সাধারণ মানুষ এই নতুন উড়ালপুলের সুফল ভোগ করতে পারবেন।