ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি)-এর অন্দরে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বাংলার অনূর্ধ্ব ১৯ দলের কোচ হিসেবে গত তিন বছর ধরে দায়িত্ব পালন করা সৌরাশিস লাহিড়ীকে আসন্ন মরশুমের জন্য বাদ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রাক্তন এই অফস্পিনার সিএবি কর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রতিবাদ করার কারণেই তাঁকে কোণঠাসা করার অভিযোগ তুলেছেন। বুধবার সিএবি বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের নতুন কোচের তালিকা ঘোষণা করার পরেই এই বিস্ফোরক মন্তব্য সামনে আসে।
সিএবি-র অস্বচ্ছতা ও রিভিউ মিটিং নিয়ে অভিযোগ
সৌরাশিস লাহিড়ীর দাবি, গত তিন বছর ধরে তিনি বাংলার বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের মানোন্নয়নে কাজ করেছেন। বিশেষ করে অনূর্ধ্ব ২৩ দল থেকে প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের মূল দলে তুলে আনার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অভিযোগ করেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি নির্বাচকদের একাংশের সিন্ডিকেট এবং দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। বারবার রিভিউ মিটিংয়ের আবেদন করা সত্ত্বেও সিএবি-র শীর্ষ কর্তারা কোনো সাড়া দেননি বলে অভিযোগ তাঁর।
ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া ও পেশাদারিত্বের অভাব
কোচ নির্বাচনের জন্য গঠিত কমিটির সাক্ষাৎকার পর্বে কোনো আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়নি বলেও সৌরাশিস জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, প্রেজেন্টেশনের জন্য কোনো স্ক্রিন বা প্রজেক্টরের ব্যবস্থা ছিল না, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইন্টারভিউ চলাকালীন দলের অন্দরের দুর্নীতি ও বিশ্বাসঘাতকতার কথা তুলে ধরার কারণেই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। সিএবি-র পক্ষ থেকে তাঁকে কোনো স্পষ্ট কারণ দর্শানো হয়নি, যা পেশাদারিত্বের অভাবকেই নির্দেশ করে।
ক্রিকেট বনাম রাজনীতি: একটি ক্রমবর্ধমান সংকট
সৌরাশিস লাহিড়ীর মতে, সিএবি-র বর্তমান পরিচালন ব্যবস্থায় ক্রিকেটের চেয়ে ভোট রাজনীতি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। দীর্ঘ বাসযাত্রার ধকল সহ্য করেও ক্রিকেটারদের অনুশীলনে নামানোর মতো পরিস্থিতির সময়ও সিএবি-র তরফ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেছেন। তাঁর মতে, যারা স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে চায়, তাদের জায়গা সিএবি-র মতো জায়গায় ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। এটি বাংলার ক্রিকেটের ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করে তুলছে বলে মনে করছেন অনেকে।
শিল্পে প্রভাব ও ভবিষ্যতের উদ্বেগ
এই ঘটনার ফলে বাংলার কোচিং স্টাফ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। অভিজ্ঞ কোচদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে উঠতি ক্রিকেটারদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকছে। আগামী দিনে সিএবি এই অভিযোগগুলোর কোনো সদুত্তর দেয় কি না, বা কোচিং প্যানেলের অন্দরে কোনো বড় ধরনের রদবদল ঘটে কি না, সেদিকেই এখন নজর থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের।