অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP) এবং ভারতীয় মজদুর সংঘ (BMS)-এর নাম ও লোগো ব্যবহার করে রাজ্যে রাতারাতি গড়ে উঠছে একাধিক ভুয়া সংগঠন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে এই ধরনের সংগঠনের সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে, যা মূল সংগঠনের নেতৃত্বকে বিড়ম্বনায় ফেলেছে। নিজেদের বিজেপি বা সঙ্ঘ পরিবারের শাখা হিসেবে পরিচয় দিয়ে এই ভুয়া সংগঠনগুলি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুয়া সংগঠনের নেপথ্যে রাজনৈতিক অভিসন্ধি
মূলত এবিভিপি ও বিএমএস-এর মতো সুপ্রতিষ্ঠিত সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টাই এই প্রবণতার প্রধান কারণ। এই ভুয়া সংগঠনগুলি বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে প্রভাব খাটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষী কিছু ব্যক্তি নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য এই ধরনের ‘গিরগিটি’ কৌশল অবলম্বন করছে।
কঠোর অবস্থানে মূল নেতৃত্ব
এই জালিয়াতি রুখতে এবার সরাসরি মাঠে নেমেছে এবিভিপি ও বিএমএস নেতৃত্ব। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, এই ধরনের সংগঠনের সঙ্গে মূল সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই। ইতিমধ্যে সংগঠনের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং জেলা স্তরে কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে যাতে কেউ এই ফাঁদে পা না দেন।
তথ্য ও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে উদ্বেগ
বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, গত তিন মাসে রাজ্যে অন্তত ডজনখানেক এমন সংগঠনের সন্ধান পাওয়া গেছে যারা এবিভিপি বা বিএমএস-এর লোগো ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার চালাচ্ছে। এই সংস্থাগুলির বেশিরভাগই কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশন বা সাংগঠনিক কাঠামো ছাড়াই কাজ করছে। মূল সংগঠনের দাবি, এদের কর্মকাণ্ড সঙ্ঘ পরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সতর্কতা
এই ভুয়া সংগঠনগুলির কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে ছাত্র এবং শ্রমিকদের মধ্যে এই বিভ্রান্তি বেশি প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এই ধরনের জালিয়াতি চালাচ্ছে। আগামী দিনে এই ধরনের সংগঠনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্য ব্যাপক প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে মূল সংগঠনগুলির। এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা জরুরি যে, আগামী দিনে কত দ্রুত এই ‘গিরগিটি’ সংগঠনগুলিকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়।