দৈনিক ৩৫টি সাপ্লিমেন্ট: সেলিব্রিটি লাইফস্টাইলের নতুন বিতর্ক
বিশ্বখ্যাত মার্কিন রিয়ালিটি তারকা কিম কার্দাশিয়ান সম্প্রতি তার রুটিন নিয়ে মুখ খুলে জানিয়েছেন যে, সুস্থ ও ফিট থাকতে তিনি প্রতিদিন প্রায় ৩৫টি বিভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্ট বা বড়ি গ্রহণ করেন। ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসরত এই তারকা তারুণ্য ধরে রাখা এবং শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখার জন্য এই কঠোর নিয়ম মেনে চলেন বলে দাবি করেছেন। তার এই অদ্ভুত ডায়েট চার্ট নিয়ে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
সাপ্লিমেন্ট সংস্কৃতির প্রেক্ষাপট
আধুনিক সেলিব্রিটি সংস্কৃতিতে দীর্ঘস্থায়ী তারুণ্য ও নিখুঁত শারীরিক গঠনের চাপ অত্যন্ত প্রবল। অনেক তারকা তাদের ডায়েট ও স্কিনকেয়ার রুটিনে একাধিক ভিটামিন, মিনারেলস এবং অ্যান্টি-এজিং সাপ্লিমেন্ট যুক্ত করেন। কিম কার্দাশিয়ানের ক্ষেত্রেও এটি তার দীর্ঘমেয়াদী ফিটনেস লক্ষ্যের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য এই ধরনের উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিতর্ক চলছে।
শরীরের ওপর প্রভাব ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, শরীরের প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত ভিটামিন বা খনিজ উপাদান গ্রহণ করলে লিভার ও কিডনির ওপর ব্যাপক চাপ পড়তে পারে। অনেক সময় ভিটামিনের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি শরীরে টক্সিসিটি বা বিষক্রিয়া তৈরি করে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, কোনো চিকিৎসকের সঠিক পরামর্শ ছাড়া এত বিপুল পরিমাণ বড়ি সেবন দীর্ঘমেয়াদে শরীরের স্বাভাবিক বিপাকীয় প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি
পুষ্টিবিদদের মতে, সাপ্লিমেন্ট কখনোই সুষম খাবারের বিকল্প হতে পারে না। শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে তা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে তবেই সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত। কিম কার্দাশিয়ানের এই অভ্যাসটি হয়তো ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে পরিচালিত, কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য এটি অনুসরণ করা চরম ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ডায়েট ও সাপ্লিমেন্টের ভারসাম্যহীনতা অস্টিওপরোসিস বা হজমের সমস্যার মতো জটিলতা ডেকে আনতে পারে।
ভবিষ্যতের প্রভাব ও করণীয়
সেলিব্রিটিদের এই ধরনের জীবনযাত্রা সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘বায়োহ্যাকিং’ বা শরীরের সক্ষমতা কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। আগামী দিনে এই ধরনের সাপ্লিমেন্ট-নির্ভর জীবনধারা জনস্বাস্থ্যের ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে আরও নিবিড় গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিরা যেন অন্ধভাবে অনুসরণ না করে ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করেন, সেটিই এখন সময়ের দাবি।