কলকাতা: সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং বেঙ্গল টি-২০ লিগে নোভাস পুরুলিয়া রয়্যালস দলের সঙ্গে যুক্ত সিএবি (ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল) অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য সুরজিৎ লাহিড়ীর বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর অপসারণ, আর্থিক জরিমানা এবং ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ড থেকে নির্বাসনের দাবি জানিয়ে সিএবির এথিক্স অফিসারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন আইনজীবী প্রাঞ্জল পাল।
গত ১০ মে বেঙ্গল টি-২০ লিগের পুরুষ বিভাগের ক্রিকেটার নিলামে নোভাস পুরুলিয়া রয়্যালস দলের নিলাম টেবিলে সুরজিৎ লাহিড়ীকে দেখা গিয়েছিল। টুর্নামেন্ট চলাকালীনও নিয়মিতভাবে তিনি ওই দলের ডাগ আউটে উপস্থিত থাকছেন।
আইনজীবী প্রাঞ্জল পাল তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেছেন যে, সিএবির গঠনতন্ত্রের ৬৭ নম্বর নিয়ম অনুযায়ী, কোনও প্রশাসক সিএবি আয়োজিত কোনও বাণিজ্যিক টুর্নামেন্টে বা ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্বাচনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকতে পারবেন না। কিন্তু সুরজিৎ লাহিড়ী এই নিয়ম গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করেছেন। অভিযোগ, নোভাস গ্লোবাল হরাইজন প্রাইভেট লিমিটেডকে ফ্র্যাঞ্চাইজি সত্ত্ব পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল, কারণ ফ্র্যাঞ্চাইজি সত্ত্ব কারা পাবে তা অনুমোদনকারী অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য তিনি নিজেই।
সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে গঠিত লোঢা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সিএবির সংশোধিত গঠনতন্ত্রে ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি জোর দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, সুরজিৎ লাহিড়ী এই নীতিও লঙ্ঘন করেছেন। এই অভিযোগের স্বপক্ষে আইনজীবী এথিক্স অফিসারের কাছে সুরজিতের নিলামের টেবিলে এবং ডাগ আউটে বসার ছবিও জমা দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সুরজিৎ লাহিড়ী, যিনি ‘জ্যাক’ নামেও পরিচিত, জানিয়েছেন যে এথিক্স অফিসার ডাকলে তিনি শুনবেন এবং তাঁর রায় মেনে নেবেন। তিনি বলেন, “আমি তো ক্রিকেট ক্লাবের সঙ্গেও যুক্ত। জানি না সেটাতে কতটা স্বার্থের সংঘাত হচ্ছে। যেটা ঠিক হবে সেটাই করা হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমার মনে হয় সবকিছু খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা নিয়ে দেখা উচিত। আমি যদি কোনও ক্রিকেট দলের সঙ্গে যুক্ত হই, সেটা তো ক্রিকেটের স্বার্থে। অন্য কোনও কারণে নয়। যদি সিএবি-র কোনও কমিটিতে থাকি, সেটাও ক্রিকেটের স্বার্থে।”
সুরজিৎ লাহিড়ী সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং রাহুল দ্রাবিড়ের উদাহরণ টেনে বলেন, “মহারাজদার বিরুদ্ধেও প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসে থাকাকালীন স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ উঠেছিল। পরে সেটাকে খারিজ করা হয়েছিল। রাহুল দ্রাবিড়ের বিরুদ্ধেও একইরকম অভিযোগ উঠেছিল। আশা করছি আমি সুবিচার পাব।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যারাই অভিযোগ করুক, আমি যেটা করি ক্রিকেটকে ভালবেসে করি।”
তিনি আরও বলেন, “১৪২ বছরে টাউন ক্লাব জোড়া ট্রফি জিতেছে। এসব নিয়ে বেশি মাথা না ঘামিয়ে কী করে বাংলার ক্রিকেটের উন্নতি হয়, আরও ক্রিকেটার উঠে আসে, সেটা নিয়ে ভাবা উচিত। আমি একটা দলের সঙ্গে যুক্ত, সেটা যদি অন্যায় হয়ে থাকে, এথিক্স অফিসার বললে সরে যাব।” সুরজিৎ লাহিড়ী পুরুলিয়া দলের সঙ্গে কোনও আর্থিক চুক্তি নেই বলে জানিয়েছেন এবং শুধুমাত্র অনুরোধে উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত হয়েছেন।
এই ঘটনাটি সিএবির প্রশাসনে স্বচ্ছতা এবং নিয়মকানুন মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এনেছে। এথিক্স অফিসারের তদন্তের পর সুরজিৎ লাহিড়ীর ভবিষ্যৎ এবং সিএবির অভ্যন্তরীণ নিয়মাবলী নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হবে।