Headlines

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শহরজুড়ে ‘নো পার্কিং’ অভিযান, গঙ্গার ঘাট সংস্কারে জোর

কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া নির্দেশের পর মঙ্গলবার রাত থেকে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে পুলিশ। বিশেষ করে এসএসকেএম হাসপাতালের (SSKM Hospital) কাছে হরিশ মুখার্জি রোডে (Harish Mukherjee Road) এবং সংলগ্ন শম্ভুনাথ পণ্ডিত স্ট্রিটে (Shambhunath Pandit Street) অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে এলাকার যান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এসএসকেএম হাসপাতালের কাছে বেশ কিছু ধাবা ও রেস্তোরাঁ রয়েছে, যেখানে রাতে উপচে পড়ে ভিড়। অভিযোগ ছিল, সেখানে আসা গাড়ি চালকরা রাস্তার দু’ধারে যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং করে রাখতেন। এর ফলে পথচারী এবং এলাকার বাসিন্দাদের অসুবিধা হচ্ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই মতো ভবানীপুর থানার পুলিশ হরিশ মুখার্জি রোডের একপাশে গার্ডরেল লাগিয়ে দেয়, যাতে অননুমোদিত পার্কিং না হয়। শুধুমাত্র রাস্তার একদিক থেকেই গাড়ি পার্কিংয়ের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, রাজ্য সরকার কলকাতার বেশ কয়েকটি গঙ্গার ঘাট সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাগবাজার ঘাট, আহিরীটোলা ঘাট, শোভাবাজার ঘাট, মল্লিক ঘাট, বাবুঘাট, রামকৃষ্ণপুর ঘাট সহ একাধিক ঘাটের সৌন্দর্যায়নের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। দুর্গাপুজোর আগেই এই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এই ঘাট সংস্কারের পাশাপাশি, ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান কলকাতায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত থাকবেন। এই অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের স্বাগত জানাতে ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ নামে একটি বিশেষ সাফাই অভিযান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে রাজ্য সরকার।

কেন্দ্রীয় স্বচ্ছ ভারত অভিযানের অংশ হিসেবে এই ঘাট সংস্কার ও সৌন্দর্যায়ন কর্মসূচি চলছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বাগবাজারে মায়ের ঘাটে সাফাই অভিযানে অংশ নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি ঘাটের সিঁড়ি ঝাঁট দিয়ে পরিষ্কার করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী পূর্ণেন্দু শেখর মান্না এবং ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। দূষণমুক্ত গঙ্গা এবং সুন্দর ঘাট – এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বৃক্ষরোপণও করেন এবং ঘাটের সিঁড়ি দিয়ে নেমে গঙ্গার দু’পাড় পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, গঙ্গায় আবর্জনা ফেলা, দূষিত জল এবং পাড়জুড়ে দখলদারি বন্ধ করতে হবে। দেশের প্রাণধারা গঙ্গাকে পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের সকলের কর্তব্য। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রের নমামি গঙ্গে (Namami Gange) প্রকল্পে বিগত তৃণমূল সরকার তেমন কোনও কাজ করেনি।

এই দুই উদ্যোগ – বেআইনি পার্কিং নিয়ন্ত্রণ এবং গঙ্গার ঘাট সংস্কার – শহরের পরিবেশ উন্নত করতে এবং নাগরিকদের জীবনযাত্রা সহজ করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুলিশি তৎপরতা এবং সরকারি উদ্যোগের ফলে শহরের যানজট কমবে এবং পরিচ্ছন্নতা বাড়বে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের আগে শহরের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *