ভারতীয় অর্থনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে এবার কাগজের নোটের বদলে প্লাস্টিক বা পলিমার নোট চালুর পরিকল্পনা করছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। মুম্বই ও পটনায় আয়োজিত সাম্প্রতিক বোর্ড মিটিংয়ে এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে, যেখানে মূলত নোট ছাপার উচ্চ খরচ কমানো এবং স্থায়িত্ব বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ক্রমবর্ধমান নগদের চাহিদা সামলাতে এই সিদ্ধান্ত মুদ্রানীতির ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায় হতে পারে।
কেন এই পরিবর্তনের পথে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক?
গত কয়েক বছরে ভারতীয় বাজারে নগদের চাহিদা অভাবনীয় হারে বেড়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে কাগজের নোট ছাপতে ৬৩৭২.৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি। কাগজের নোট দ্রুত জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় প্রতি বছর কোটি কোটি নোট বাতিল করতে হয়, যা কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি করে।
প্লাস্টিক মানি: স্থায়িত্ব ও প্রযুক্তি
পলিমার নোট বা ‘প্লাস্টিক মানি’ মূলত ‘বায়াক্সিয়ালি ওরিয়েন্টেড পলিপ্রোপিলিন’ (BOPP) নামক এক বিশেষ সিন্থেটিক উপাদান দিয়ে তৈরি। এই নোটগুলো কাগজের তুলনায় অনেক বেশি মজবুত, জলরোধী এবং সহজে ছিঁড়ে যায় না। এছাড়া, বর্তমানের আধুনিক এটিএমগুলো এই পলিমার নোট বিতরণে সক্ষম, যা এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের উপযোগী করে তুলেছে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও ভারতের প্রস্তুতি
১৯৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়া প্রথম পলিমার নোট চালু করার পর বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। সিঙ্গাপুর, কানাডা, ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে সফলভাবে এই নোট ব্যবহার করছে। ভারতে ২০১২ সালে প্রথম এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে তা থমকে গিয়েছিল। বর্তমান উন্নত অবকাঠামো এবং এটিএম প্রযুক্তির উন্নতির ফলে ভারত এখন এই পথে হাঁটার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
ডিজিটাল লেনদেনের ব্যাপক প্রসার সত্ত্বেও ভারতে নগদের চাহিদা কমেনি; বরং চলতি অর্থবর্ষের প্রথম দেড় মাসেই বাজারে চালু মুদ্রার পরিমাণ ১১০০০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্লাস্টিক নোট চালু হলে নোটের গড় আয়ু বৃদ্ধি পাবে, ফলে দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রণ খরচ অনেক কমে আসবে। আগামী দিনে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এই বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা করলে ভারতীয় মুদ্রার ইতিহাসে এক বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ শুধু আর্থিক সাশ্রয়ই করবে না, বরং জাল নোটের কারবারিদের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।