Headlines

US-Pakistan Relations: ইজ়রায়েলকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিতে চাপ! ট্রাম্পের আশায় জল ঢেলে দিল পাকিস্তান

US-Pakistan Relations: ইজ়রায়েলকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিতে চাপ! ট্রাম্পের আশায় জল ঢেলে দিল পাকিস্তান Photo by Werner Pfennig on Pexels

পাকিস্তানের অটল অবস্থান

আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাশাকে কার্যত ধূলিসাৎ করে দিয়ে পাকিস্তান জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা ইজ়রায়েলকে কোনোভাবেই রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে না। ট্রাম্প চেয়েছিলেন পাকিস্তান ‘অ্যাব্রাহাম চুক্তি’তে স্বাক্ষর করে ইজ়রায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করুক, কিন্তু ইসলামাবাদ তাদের দীর্ঘস্থায়ী আদর্শিক অবস্থানের ওপর অটল থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্যালেস্তাইনের ন্যায্য অধিকার ও ১৯৬৭ সালের মানচিত্রের ভিত্তিতে সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

অ্যাব্রাহাম চুক্তির প্রেক্ষাপট

২০২০ সালে আমেরিকার মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ‘অ্যাব্রাহাম চুক্তি’ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করে। এই চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানের মতো দেশগুলো ইজ়রায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করে। ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রক্রিয়াকে আরও বিস্তৃত করে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মতো শক্তিশালী মুসলিম দেশগুলোকে এই বলয়ের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে।

আদর্শিক সংঘাত ও বাস্তব রাজনীতি

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘সামা টিভি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইজ়রায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া পাকিস্তানের মৌলিক আদর্শের পরিপন্থী। তিনি ইজ়রায়েলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, যে রাষ্ট্র মানবতার ওপর অবিচার করছে, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা নৈতিকভাবে অসম্ভব। ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তান বরাবরই ইজ়রায়েলকে একটি অবৈধ রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে এসেছে এবং তাদের পাসপোর্টেও ইজ়রায়েল ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকির সমীকরণ

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের প্রস্তাব গ্রহণ করলে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। দেশটির ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহলে প্যালেস্তাইন ইস্যু অত্যন্ত সংবেদনশীল, ফলে সরকার এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে দ্বিধাগ্রস্ত যা সাধারণ মানুষের ক্ষোভের কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে, মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার দায়বদ্ধতাও এখানে বড় ভূমিকা পালন করছে।

ভবিষ্যতের প্রভাব

ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে যখন দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনির ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। তবে এই কূটনৈতিক সমীকরণ এখন এক জটিল মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে আমেরিকার কাছ থেকে বিনিয়োগ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতির আদর্শিক অবস্থান—এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা আগামী দিনে শেহবাজ শরিফ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর এখন ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং পাকিস্তান কীভাবে এই কূটনৈতিক চাপ সামলায়, তার দিকেই নিবদ্ধ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *