আইপিএলের দুর্দান্ত ছন্দে হেনরিখ ক্লাসেন
চলতি আইপিএল মরসুমে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে ব্যাট হাতে বিধ্বংসী ফর্মে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ব্যাটার হেনরিখ ক্লাসেন। টুর্নামেন্টের ৯টি ম্যাচে ৪১৪ রান করে তিনি নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছেন, যার মধ্যে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ৩০ বলে ৬৫ রানের এক অনবদ্য ইনিংসও রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে গত জুন মাসে আচমকা অবসর নেওয়া এই খেলোয়াড়ের বর্তমান ফর্ম ক্রিকেট মহলে জল্পনা উসকে দিয়েছে যে, তিনি কি জাতীয় দলে আবারও ফিরতে পারেন?
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর ক্লাসেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে আইপিএলে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং চাপের মুখে ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা দেখার পর ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা তাঁকে জাতীয় দলে ফেরানোর দাবি তুলছেন। বিশেষ করে প্রাক্তন ইংরেজ অধিনায়ক কেভিন পিটারসেন সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন, যেখানে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ডকে ক্লাসেনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন। পিটারসেনের মতে, আগামী বছর ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নপূরণ করতে হলে ক্লাসেনের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারের উপস্থিতি অপরিহার্য।
মাঠের পারফরম্যান্স ও প্রভাব
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে নীতীশ কুমার রেড্ডির সঙ্গে তাঁর জুটি চলতি মরসুমে বারবার বিপক্ষ বোলারদের শাসন করেছে। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচেও ক্লাসেনের ২২ বলে অর্ধশতরান সানরাইজার্সকে আইপিএল ইতিহাসের অন্যতম বড় জয় এনে দেয়। পরিসংখ্যান বলছে, কেবল পাওয়ার হিটিং নয়, বরং পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী ইনিংস গড়ার ক্ষেত্রেও ক্লাসেন এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটার।
প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা বনাম বাস্তব
যদিও ভক্তরা তাঁকে ফের প্রোটিয়া জার্সিতে দেখতে আগ্রহী, কিন্তু ক্লাসেন নিজে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বর্তমান অবস্থায় ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক স্তরে ফেরার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই। তবুও ক্রিকেট দুনিয়ায় তাঁর ফর্ম যেভাবে নজর কাড়ছে, তাতে আগামী দিনে বোর্ড কর্তারা তাঁকে রাজি করানোর কোনো উদ্যোগ নেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।
ভবিষ্যৎ ও নজর রাখার মতো বিষয়
আইপিএলের বাকি ম্যাচগুলোতে ক্লাসেনের ব্যাট কতটা গর্জে ওঠে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। যদি তিনি এই ফর্ম বজায় রাখতে পারেন, তবে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ডের ওপর চাপ বাড়বে তাঁকে দলে ফেরানোর জন্য। ক্রিকেট সমর্থকরা তাকিয়ে থাকবেন সেই দিনের দিকে, যখন ক্লাসেন তাঁর অবসরের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেন কি না। পরবর্তী বড় টুর্নামেন্টগুলোতে প্রোটিয়াদের ব্যাটিং লাইনআপে তাঁর অভাব কতটা অনুভূত হয়, সেটাই হবে আগামী দিনের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।