কলকাতা: শনিবার ইডেন গার্ডেন্সে দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে ৪০ রানে হেরে টুর্নামেন্ট শেষ করল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। এই হারের ফলে ১৪ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের সাত নম্বরে শেষ করল তারা, যা তাদের প্লে অফের আশা শেষ করে দেয়। দিল্লি ক্যাপিটালস ২০৩/৫ রান করার পর কেকেআর ১৮.৪ ওভারে ১৬৩ রানে অল আউট হয়ে যায়।
ম্যাচের শুরুতে একটি ক্ষীণ আশা ছিল কেকেআর সমর্থকদের। তারা আশা করেছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স রাজস্থান রয়্যালসকে হারাবে এবং কেকেআর একটি নির্দিষ্ট ব্যবধানে দিল্লিকে হারাবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে, যেখানে রাজস্থান রয়্যালস মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারিয়ে প্লে অফের টিকিট নিশ্চিত করে। এর ফলে কেকেআর বনাম দিল্লি ম্যাচটি কেবল নিয়মরক্ষার হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এই নিয়মরক্ষার ম্যাচেও কেকেআর নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। দিল্লি ক্যাপিটালস প্রথমে ব্যাট করে ২০৩/৫ রানের বড় স্কোর করে। জবাবে, কেকেআর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৬৩ রানে গুটিয়ে যায়। ডেভিড ওয়ার্নার এবং অভিষেক পোরেল ব্যাট হাতে ভালো পারফর্ম করেন দিল্লির হয়ে। কেকেআরের হয়ে রিঙ্কু সিং সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন, কিন্তু তা দলের হার আটকাতে যথেষ্ট ছিল না।
এই টুর্নামেন্টে কেকেআর-এর পারফরম্যান্স ছিল মিশ্র। তারা কিছু ম্যাচে দুর্দান্ত জয় পেলেও, ধারাবাহিকতার অভাব তাদের ভোগায়। বিশেষ করে শেষ কয়েকটি ম্যাচে দলের ব্যাটিং এবং বোলিং উভয় বিভাগই ব্যর্থ হয়। ১৪ ম্যাচে মাত্র ছয়টি জয় এবং সাতটি হার তাদের প্লে অফের দৌড় থেকে ছিটকে দেয়।
খেলার শেষে কেকেআর-এর এই অবস্থান অনেকের কাছেই হতাশাজনক। গতবারের চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে এবং শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে তাদের কাছে প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। দলের অধিনায়কত্ব এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। লিগের শেষে তাদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আগামী মরশুমের জন্য নতুন পরিকল্পনা করতে হবে।
দিল্লি ক্যাপিটালসের জয় তাদের শেষ ম্যাচে একটি ইতিবাচক নোট এনে দিয়েছে। যদিও তারাও প্লে অফে উঠতে পারেনি, তবে শেষ ম্যাচে তারা নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছে। এই জয় তাদের সমর্থকদের জন্য একটি সান্ত্বনা পুরস্কার।
কেকেআর-এর মতো দলগুলোর জন্য এই ধরনের টুর্নামেন্ট একটি বড় শিক্ষা। প্রতিপক্ষের শক্তি এবং দুর্বলতা বুঝে সঠিক পরিকল্পনা করা কতটা জরুরি, তা এই ম্যাচ প্রমাণ করে দিল। এছাড়াও, টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তাও স্পষ্ট।
আগামী দিনে কেকেআর-এর সামনে এখন নিজেদের দল পুনর্গঠন এবং আগামী মরশুমের জন্য শক্তিশালী পরিকল্পনা তৈরির চ্যালেঞ্জ। কোন কোন খেলোয়াড়কে ধরে রাখা হবে এবং কাদের বাদ দেওয়া হবে, তা নিয়ে নির্বাচকরা শীঘ্রই বসবেন। দলের ব্যাটিং লাইন-আপ এবং বোলিং অ্যাটাক আরও শক্তিশালী করার দিকে নজর দিতে হবে।