বৃহস্পতিবার দুপুরে ভারতের ডিজিটাল রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রাম। দীর্ঘদিনের আধিপত্য ভেঙে দেশের শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসকে ফলোয়ার সংখ্যার নিরিখে পেছনে ফেলে দিয়েছে নবগঠিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামে সিজেপি-র ফলোয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৪১ লক্ষ ছাড়িয়েছে, যেখানে কংগ্রেসের ফলোয়ার ১ কোটি ৩৩ লক্ষ এবং বিজেপির ফলোয়ার সংখ্যা মাত্র ৮৭ লক্ষ। একটি ব্যঙ্গধর্মী ‘মিম’ পেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এই মঞ্চটি এখন দেশের বৃহত্তম ভার্চুয়াল রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
পটভূমি: একটি মন্তব্য এবং ডিজিটাল বিদ্রোহের সূচনা
ককরোচ জনতা পার্টির এই উল্কাসম উত্থানের মূলে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের একটি বিতর্কিত ঘটনা। একটি মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার যুবক-যুবতীদের ‘আরশোলা’ এবং ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ছিল যে, কর্মসংস্থান না পেয়ে অনেকেই সাংবাদিকতা বা আরটিআই-এর মতো পেশাকে হাতিয়ার করে সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করছে। যদিও পরবর্তীতে বিচারপতি জানান যে তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে, ততক্ষণে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। এই অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতেই বস্টন ইউনিভার্সিটির ছাত্র এবং আম আদমি পার্টির প্রাক্তন সোশ্যাল মিডিয়া কর্মী অভিজিৎ ডিপকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সূচনা করেন।
বিজেপি ও কংগ্রেসকে টেক্কা: পরিসংখ্যানের লড়াই
ভারতের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো যেখানে কোটি কোটি টাকা খরচ করে আইটি সেল পরিচালনা করে, সেখানে সিজেপি-র এই সাফল্য বিশেষজ্ঞদের চমকে দিয়েছে। মাত্র ৫৫টি পোস্টের মাধ্যমে তারা ১ কোটি ৪০ লক্ষের বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সিজেপি-র ফলোয়ার বৃদ্ধির হার প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। এতদিন পর্যন্ত ইনস্টাগ্রামে কংগ্রেস সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের দাবি করত, কিন্তু সিজেপি-র ঝড়ে তারা দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছে। বিজেপি এই দৌড়ে বর্তমানে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে, যা তাদের ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজি নিয়ে নতুন করে ভাবার অবকাশ তৈরি করেছে।
সেলেব্রিটি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সমর্থন
সিজেপি-র এই আন্দোলনে শুধুমাত্র সাধারণ মানুষই নয়, যোগ দিচ্ছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদ ইতিমধ্যেই এই মঞ্চের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘সিজেপি বনাম বিজেপি’ লিখে সরাসরি সমর্থন জানিয়েছেন। বিনোদন জগত থেকেও ব্যাপক সাড়া মিলছে; কঙ্কনা সেনশর্মা, দিয়া মির্জা, অনুরাগ কাশ্যপ এবং এষা গুপ্তার মতো বলিউড তারকারা এই অ্যাকাউন্টটি ফলো করতে শুরু করেছেন। এছাড়া কৌতুকশিল্পী কুণাল কামরা এবং উরফি জাভেদের মতো সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের যোগদান এই আন্দোলনকে আরও গতিশীল করেছে।
কারিগরি বাধা ও দমন-পীড়নের অভিযোগ
বুধবার রাতে হঠাৎ করেই ইনস্টাগ্রামে সিজেপি-র অ্যাকাউন্টটি খুঁজে পেতে সমস্যা হয়, যা নিয়ে নেটপাড়ায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে অভিযোগ করেন যে, তাদের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে কেউ বা কোনো গোষ্ঠী অ্যাকাউন্টটি সাসপেন্ড বা হ্যাক করার চেষ্টা করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন,