আগামী ২৫ বৈশাখ, শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নবগঠিত সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। এই ঐতিহাসিক আয়োজনে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দীর্ঘ ১৫ বছরের নিরলস রাজনৈতিক প্রচেষ্টার পর বাংলায় ক্ষমতা দখলের এই মুহূর্তটি ঘিরে গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহলে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক গুরুত্ব
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই জয় ভারতীয় রাজনীতির মানচিত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভূমি হিসেবে পরিচিত এই রাজ্যে এতদিন বিজেপির শক্ত ঘাঁটি তৈরি করা ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। দক্ষিণ ভারত এবং হিন্দি বলয়ের পর এবার পশ্চিমবঙ্গের শাসনভার হাতে নেওয়া বিজেপির জাতীয় কৌশলের একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য জোরকদমে চলছে হেলিপ্যাড তৈরির কাজ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরাসরি ব্রিগেডে অবতরণের পরিকল্পনা রয়েছে, তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়। আইজি সিআরপিএফ-এর নেতৃত্বে নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে যাতে ভিভিআইপিদের সুরক্ষায় কোনো খামতি না থাকে।
নতুন মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য মুখ
বিজেপি সূত্রে খবর, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হতে পারে। সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় অগ্নিমিত্রা পাল, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, শঙ্কর ঘোষ এবং দিলীপ ঘোষের মতো অভিজ্ঞ নেতাদের নাম শোনা যাচ্ছে। বর্ষীয়ান নেতা তাপস রায়কে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।
আগামী দিনের পথচলা
বিজেপি নেতৃত্ব একে ‘জনতার সরকার’ হিসেবে অভিহিত করছে। তবে সরকার গঠনের পরপরই রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আগামীকাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে পরিষদীয় দলের বৈঠকে চূড়ান্ত হবে মন্ত্রিসভার কাঠামো। রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানানোর পর থেকেই শুরু হবে নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা। এই শপথগ্রহণের পর রাজ্যের উন্নয়নের গতিপথ এবং বিরোধী দলগুলোর সাথে সম্পর্কের রসায়ন কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তা এখন দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।