Headlines

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল Photo by Abi Ajiba on Pexels

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্য। ৭ মে, ২০২৬ তারিখে রাজ্যপাল এন রবি ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ২ নম্বর ধারা অনুযায়ী রাজ্যের বর্তমান বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন এবং তাঁর মন্ত্রিসভার মেয়াদ অবসান ঘটল।

সংবিধানের পথে রাজ্যপালের পদক্ষেপ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিতে অস্বীকার করায় এই সাংবিধানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর স্বাভাবিক নিয়মেই সরকারের অবসান ঘটে। রাজ্যপালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৭ মে থেকে বিধানসভা কার্যকরভাবে বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে।

নির্বাচনী ফলাফল ও বিতর্কের প্রেক্ষাপট

গত ৪ মে ঘোষিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বিপরীতে তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ থাকে। তবে এই ফলাফলকে ‘ভোট লুঠ’ আখ্যা দিয়ে মেনে নিতে অস্বীকার করেছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন যে, নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় বিজেপি এই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে।

প্রতিবাদের ভাষা ও ইস্তফায় অনীহা

নির্বাচন পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তিনি কোনোভাবেই ইস্তফা দেবেন না কারণ তিনি নৈতিকভাবে পরাজিত হননি। তাঁর মতে, এই লড়াই তৃণমূল বনাম বিজেপি নয়, বরং তৃণমূল বনাম নির্বাচন কমিশন ছিল। এই প্রতিবাদী অবস্থানের কারণেই তিনি রাজভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।

প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব

নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গসহ পাঁচ রাজ্য থেকে আদর্শ আচরণ বিধি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তবে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন থাকায় সেখানে বিধি বলবৎ থাকছে। এই রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো এখন সম্পূর্ণ নতুন রূপ নিতে চলেছে।

ভবিষ্যতের পথে নতুন সরকার

আগামী ২৫ বৈশাখ ব্রিগেডে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ এবং রাজ্যের শাসনভার হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এখন রাজ্য রাজনীতির মূল কেন্দ্রে রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর এখন নতুন সরকারের প্রথম পদক্ষেপ এবং বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর পরবর্তী রণকৌশলের দিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *