আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বাংলাদেশের কোরবানির পশুর হাটে এবার এক ব্যতিক্রমী নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। বিরল আলবিনিজম বা শ্বেতী রোগের কারণে সাদা রঙের এই মহিষটি দেখতে অনেকটা ভিন্নধর্মী হওয়ায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ঢাকার একটি খামারে পালিত এই মহিষটির দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও বিশাল আকৃতি প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
অ্যালবিনিজম ও মহিষের পরিচয়
প্রাণিবিজ্ঞানীদের মতে, আলবিনিজম হলো একটি জন্মগত অবস্থা যেখানে মেলানিনের অভাবে প্রাণীর ত্বক ও লোম সাদা বা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। এই মহিষটির ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে এর গায়ের রঙ ধবধবে সাদা। খামারিরা শখের বশে নাম দিয়েছেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। এটি কোনো বিশেষ জাত নয়, বরং দেশীয় মহিষের একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও পরিচর্যা
বিশালদেহী এই মহিষটির প্রতিদিনের খাবারের তালিকা বেশ দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল। খামারের তথ্যমতে, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ প্রতিদিন প্রায় ২৫ কেজি সবুজ ঘাস খেয়ে থাকে। ঘাসের পাশাপাশি তাকে প্রতিদিন আধা মণ বা প্রায় ২০ লিটার পানি পান করতে হয়। শক্তির জোগান দিতে খাদ্যের তালিকায় ছোলা ও ভুসি নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে, যা তার স্বাস্থ্যের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়
খামারে মহিষটিকে দেখার জন্য প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন। অনেক দর্শনার্থীই কৌতূহলবশত মহিষটির সঙ্গে সেলফি তুলছেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এই ধরনের শ্বেত মহিষ সচরাচর দেখা যায় না, তাই এটি দর্শনার্থীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। তবে কেবল সৌন্দর্য নয়, এর ওজন ও স্বাস্থ্যগত দিক নিয়েও খামারিরা বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও প্রভাব
কোরবানির বাজারে এ ধরনের বিশেষ পশুর উপস্থিতি প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন ধারার সূচনা করেছে। অনেক খামারি এখন প্রচলিত গরু-ছাগলের পাশাপাশি মহিষ পালনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। মহিষের মাংসের পুষ্টিগুণ ও চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজারে এটি একটি নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিকল্পিতভাবে মহিষ পালন করলে তা দেশের মাংসের চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
আগামী দিনের সম্ভাবনা
আসন্ন কোরবানির ঈদে এই মহিষটি কত দামে বিক্রি হয়, তা নিয়ে খামারি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এটি কেবল একটি কোরবানির পশু হিসেবেই নয়, বরং প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী ও গবেষণার ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিরল বৈশিষ্ট্যের প্রাণীর প্রজনন ও সংরক্ষণ নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তা দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।