বাংলার অনূর্ধ্ব-১৬ ক্রিকেট দলের কোচ হিসেবে পুনর্নিয়োগ না পাওয়ার পর বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার অরিন্দম দাস। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই কোচকে এবার ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হয়নি, যা নিয়ে তিনি সরাসরি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের (সিএবি) কার্যপদ্ধতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গত চার বছর ধরে বাংলার জুনিয়র ক্রিকেটের ভিত মজবুত করার কাজে যুক্ত থাকা অরিন্দম অভিযোগ করেছেন, জেলা থেকে প্রতিভা অন্বেষণে সিএবি কার্যত বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে সিএবি-র ভূমিকা
অরিন্দম দাসের অভিযোগ, সিএবি-র নির্বাচক এবং স্কাউটরা বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের ম্যাচগুলো দেখার ক্ষেত্রে চরম উদাসীন। তিনি জানান, গত দুই বছরে অধিকাংশ নির্বাচক অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ের ম্যাচ দেখেননি। ফলে মাঠের প্রতিভা চেনার পরিবর্তে ‘ঠান্ডা ঘরে বসে’ ভিশন প্রকল্পের ক্রিকেটার নির্বাচন করা হয়েছে, যা তৃণমূল স্তরের ক্রিকেটারদের প্রতি অবিচার। তিনি আরও জানান, স্থানীয় লিগের ম্যাচ দেখতে গিয়েও তাকে সিএবি কর্তৃপক্ষের বিরাগভাজন হতে হয়েছিল, যেখানে তাকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে এটা তার কাজ নয়।
জেলা থেকে প্রতিভা অন্বেষণে বাধা
বাংলার অনূর্ধ্ব-১৬ দলের প্রাক্তন কোচ স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি চেয়েছিলেন আরও বৃহত্তর পরিসরে ট্রায়াল আয়োজন করতে, যাতে রাজ্যের প্রতিটি জেলা থেকে প্রতিভারা উঠে আসতে পারে। কিন্তু তাকে নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড়ের তালিকা ধরিয়ে দিয়ে বলা হয়েছিল, এদের থেকেই দল গড়তে হবে। অরিন্দম প্রশ্ন তুলেছেন, আকাশ তরফদার বা অঙ্কিত চট্টোপাধ্যায়ের মতো জেলার প্রতিশ্রুতিমান খেলোয়াড়দের সুযোগ পাওয়ার প্রক্রিয়াকে যদি বাধা দেওয়া হয়, তবে বাংলার ক্রিকেট কীভাবে সমৃদ্ধ হবে? তার মতে, সিএবি যদি শুধু কলকাতার ক্রিকেটারদের প্রাধান্য দেয়, তবে সংস্থার নাম বদলে ‘ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ কলকাতা’ রাখা উচিত।
সিস্টেমের ব্যর্থতা নিয়ে উদ্বেগ
অরিন্দম দাসের মতে, সিএবি-র কোচিং ব্যবস্থায় কোনো স্বচ্ছতা নেই এবং রিভিউ মিটিংয়ের মতো জরুরি বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়। তিনি অনুষ্টুপ মজুমদারকে নতুন কোচ হিসেবে অভিনন্দন জানালেও, কোচ নির্বাচনের নেপথ্যে থাকা ‘পারমুটেশন-কম্বিনেশন’ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তার মতে, কোচ হওয়ার চেয়েও বড় বিষয় হলো একটি সঠিক সিস্টেম তৈরি করা, যা বাংলার ক্রিকেটকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করবে।
ভবিষ্যতের পথে বাংলার ক্রিকেট
অরিন্দমের এই তোপ বাংলার ক্রিকেট মহলে বড়সড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যখন সিনিয়র দলে বাংলার পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন জুনিয়র স্তরের পরিকাঠামো এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে এই বিতর্ক সিএবি-র প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাল। এখন দেখার বিষয়, সিএবি কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগগুলোর কোনো উত্তর দেয় কি না, নাকি সিস্টেমের এই অসামঞ্জস্য আগামী দিনে বাংলার ক্রিকেটকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দেয়।