ভোট গণনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি। রবিবার রাতে পানিহাটির ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সন্তু দাসের বাড়ির সামনে রহস্যজনকভাবে সাদা থান এবং হুমকি পোস্টার উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পোস্টারে সরাসরি ওই নেতাকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে, ‘তৃণমূল নেতাগিরির… কালকেই তোর শেষদিন।’ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল পানিহাটিতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছিল। এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন সিপিএমের কলতান দাশগুপ্ত এবং আরজি কর কাণ্ডের নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ, যিনি বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হেভিওয়েট এই কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রচারের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্মৃতি ইরানির মতো শীর্ষস্থানীয় বিজেপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন, যা এই আসনটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা ও পুলিশের ভূমিকা
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয়রা তাদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তৃণমূল নেতা সন্তু দাস এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করেছেন, তবে গেরুয়া শিবির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গণনাকে কেন্দ্র করে যখন সারা রাজ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, তখন এই ধরণের ঘটনা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা বলয়
আগামী ৪ মে রাজ্যের ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট গণনা অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রতিটি গণনাকেন্দ্র ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। গণনাকেন্দ্রের বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং ১৬৩ ধারা জারি করে জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কমিশনের কড়া নির্দেশ অনুযায়ী, গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো কাউন্টিং এজেন্টকে বাইরে বেরোনোর অনুমতি দেওয়া হবে না এবং বিজয় মিছিলের ক্ষেত্রে পুলিশের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সতর্কতা
পানিহাটির এই ঘটনা নির্বাচনী উত্তেজনার একটি চরম বহিঃপ্রকাশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগে এই ধরণের হুমকি এবং আতঙ্ক ছড়ানোর ঘটনা জনমানসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী দিনে গণনাকেন্দ্রের আশেপাশের পরিস্থিতি এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেও, শেষ পর্যন্ত মানুষের রায় কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।