Headlines

গুজরাতের বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মোদি তত্ত্ব’: উচ্চশিক্ষায় নতুন বিতর্ক

গুজরাতের বিশ্ববিদ্যালয়ে 'মোদি তত্ত্ব': উচ্চশিক্ষায় নতুন বিতর্ক Photo by Yan Krukau on Pexels

গুজরাতের বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মোদি তত্ত্ব’: উচ্চশিক্ষায় নতুন বিতর্ক

গুজরাতের ভাদোদরায় অবস্থিত মহারাজা সায়াজিরাও বিশ্ববিদ্যালয় (MSU) তাদের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের পাঠ্যক্রমে ‘মোদি তত্ত্ব’ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জুন মাস থেকে শুরু হওয়া নতুন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বগুণ, আরএসএস (RSS)-এর আদর্শ এবং হিন্দু সমাজবিজ্ঞানের ওপর পড়াশোনা করার সুযোগ পাবেন। এই সিদ্ধান্তটি দেশের শিক্ষা মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পাঠ্যক্রমের প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, এই মডিউলগুলো মূলত ‘ভারতীয় জ্ঞানধারা’ পুনরুজ্জীবিত করার উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ডঃ বীরেন্দ্র সিংহ, যিনি নীতি আয়োগের সাথেও যুক্ত, এই নতুন পাঠ্যক্রমের রূপকার। তাঁর মতে, বর্তমান প্রজন্মের কাছে সমসাময়িক রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রভাব ও আদর্শ তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

‘মোদি তত্ত্ব’ ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

পাঠ্যক্রমে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বকে জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবারের ‘ক্যারিশম্যাটিক অথরিটি’ বা বর্ণময় নেতৃত্বের ধারণার আলোকে ব্যাখ্যা করা হবে। ডঃ সিংহের দাবি, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং তৃণমূল স্তরে সরকারি নীতির সাফল্য শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। এছাড়া আরএসএস-এর কার্যক্রম এবং সর্দার বল্লভভাই পটেলকে ঘিরে বিজেপির দৃষ্টিভঙ্গিও পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে।

শিক্ষাবিদদের প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক

এই সিদ্ধান্ত প্রকাশের পরপরই শিক্ষাবিদদের একাংশ এর তীব্র সমালোচনা করেছেন। সমালোচকদের মতে, এটি উচ্চশিক্ষার ‘গৈরিকীকরণ’ বা রাজনৈতিককরণের একটি স্পষ্ট উদাহরণ। তাঁদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার পরিবর্তে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা একাডেমিক স্বাধীনতার পরিপন্থী।

ভবিষ্যতের প্রভাব ও পর্যবেক্ষণ

এই পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্তি ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় রাজনৈতিক আদর্শের প্রভাব নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী বিতর্কের সূচনা করল। আগামী দিনগুলিতে এই কোর্সটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে কতটা প্রভাব ফেলে এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একই পথে হাঁটে কি না, তা দেখার বিষয়। একইসাথে, পাঠ্যক্রমের বিষয়বস্তু কতটা বস্তুনিষ্ঠ থাকবে, তা নিয়েও শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের নজর থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *