বলিউডের চিরসবুজ অভিনেতা গোবিন্দ এবং তাঁর স্ত্রী সুনীতা আহুজার সম্পর্কের সমীকরণ যেন এক রহস্যময় গোলকধাঁধা। কয়েক দশক ধরে তাঁদের দাম্পত্য জীবন নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা এবং সুনীতার মন্তব্য সেই তিক্ততাকে যেন জনসমক্ষে আরও প্রকট করে তুলেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে গোবিন্দের সঙ্গে ঘটা সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সুনীতার সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে।
দুর্ঘটনা ও সুনীতার তীর্যক মন্তব্য
গোবিন্দের নিজের রিভালবার থেকে গুলি বেরিয়ে তাঁর পায়ে আঘাত করার ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। অভিনেতা দীর্ঘ সময় শয্যাশায়ী ছিলেন এবং সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য তাঁকে অনেকটা সময় ব্যয় করতে হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই ভক্তরা উদ্বিগ্ন ছিলেন তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়ে। কিন্তু এই কঠিন সময়েও সুনীতার প্রতিক্রিয়া ছিল অপ্রত্যাশিত। তিনি নাম না করেই গোবিন্দকে উদ্দেশ্য করে কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘যাঁরা চোখ দিয়ে গুলি করে, তৃতীয় ব্যক্তির কাছে চলে যান, তাঁরা নিজের পায়ে নিজে গুলিই করেন।’ এই মন্তব্যটি সরাসরি গোবিন্দের সেই দুর্ঘটনার দিকেই ইঙ্গিত করে, যা তাঁদের সম্পর্কের বর্তমান শীতলতার প্রমাণ দিচ্ছে।
বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ ও গোবিন্দের সাফাই
সুনীতা বারবারই গোবিন্দের বিরুদ্ধে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ তুলেছেন। যদিও তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই তৃতীয় ব্যক্তি কোনো অভিনেত্রী নন, তবুও এই অভিযোগ গোবিন্দের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে আঘাত করেছে। এই সবকিছুর পরিপ্রেক্ষিতে গোবিন্দ অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি অনেক নায়িকার সঙ্গে কাজ করেছেন, কিন্তু কখনোই কোনো আপত্তিকর আচরণ করেননি। তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘এক সময়ে কোনো মহিলাকে ছুঁতে আমার হাত কাঁপত। আজ যখন বয়স হয়েছে, তখন কেন এমন অভিযোগ উঠবে?’
পারিবারিক অশান্তির গভীরতা
গোবিন্দ মনে করেন, সুনীতাকে কেউ বা কারা ভুল বুঝিয়ে এমন অভিযোগ করতে প্ররোচিত করছে। তিনি চান সুনীতা এই নেতিবাচক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসুক। বয়সের এই পর্যায়ে এসে যখন মানুষ একটু শান্তির খোঁজ করেন, তখন পারিবারিক অশান্তি যে কতটা মানসিক চাপের কারণ হতে পারে, তা অভিনেতার কথা থেকেই স্পষ্ট। তিনি নিজেকে একটি শ্রমসাধ্য ষাঁড়ের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, সারা জীবন কঠোর পরিশ্রম করার পর যখন কাজের ক্ষমতা কমে আসে, তখন তাকে অবহেলা করা হয়। এই রূপকটি যেন তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিগত জীবনের এক করুণ পরিণতির ইঙ্গিত দেয়।
সম্পর্কের টানাপোড়েন ও জীবনের বাস্তবতা
জনপ্রিয়তার শিখরে থাকা একজন মানুষের জীবনের অন্তরালে যে কতখানি শূন্যতা ও বিবাদ থাকতে পারে, তা এই দম্পতির ঘটনাটি আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়। ক্যামেরার সামনে হাসিখুশি গোবিন্দকে আমরা সবাই চিনি, কিন্তু ঘরের ভেতরের এই তিক্ততা যে তাঁর জীবনের বড় এক আক্ষেপ, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। সম্পর্কের ভিত্তি যেখানে বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, সেখানে সন্দেহ আর কটাক্ষের বিষ যখন প্রবেশ করে, তখন বছরের পর বছর গড়া ভালোবাসা ম্লান হতে শুরু করে। হয়তো জীবনের এই পড়ন্ত বিকেলে এসে তাঁদের উভয়েরই প্রয়োজন কিছুটা ধৈর্য এবং সহমর্মিতার, যা দীর্ঘদিনের এই তিক্ততার অবসান ঘটিয়ে আবার নতুন করে শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে। জীবনের প্রতিটি বাঁকে সম্পর্কের এই জটিলতা আমাদের শেখায় যে, খ্যাতির আলো সব সময় ঘরের ভেতরের অন্ধকার দূর করতে পারে না।