তীব্র দাবদাহের কারণে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে গবাদি পশুর স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে, যার ফলে দুধ উৎপাদনের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অসহনীয় গরমের ফলে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার কৃষকরা এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বড় ধাক্কা দিয়েছে, কারণ অনেক পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস হল দুধ বিক্রি।
গরমে নাজেহাল গবাদি পশু
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা গরুদের শারীরিক কার্যকলাপ এবং হজম ক্ষমতাকে ব্যাহত করে। গরমে তাদের শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দেয় এবং খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি হয়। এই কারণে দুধ উৎপাদন কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে, গরমে অসুস্থ হয়ে পশু মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে, যা কৃষকদের জন্য আরও বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিভিন্ন জেলার পশুচিকিৎসকরা জানাচ্ছেন যে, গরমে পশুর হিটস্ট্রোক হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। গরমে তাদের শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে পশুর স্বাভাবিক উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। যেসব গাভী দিনে ১০-১২ লিটার দুধ দিত, তাদের উৎপাদন এখন ৫-৭ লিটারে নেমে এসেছে।
উৎপাদন হ্রাসের কারণ ও প্রভাব
এই বছর গ্রীষ্মের শুরু থেকেই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। বিশেষ করে মে ও জুন মাসে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একদিকে যেমন গরম, তেমনই অন্যদিকে পর্যাপ্ত জলের অভাব এবং সবুজ ঘাসের সংকটও পশুর স্বাস্থ্যহানির অন্যতম কারণ।
কৃষকদের মতে, গরমের কারণে পশুর খাদ্যাভ্যাস বদলে যাচ্ছে। তারা স্বাভাবিকের চেয়ে কম খাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দুধের পরিমাণে। একটি সমীক্ষা অনুসারে, এই গরমে দুধ উৎপাদন প্রায় ৩০-৪০% পর্যন্ত কমে গেছে। এই আকস্মিক উৎপাদন হ্রাসের ফলে কৃষকদের আয় কমে গেছে এবং বাজারে দুধের সরবরাহও কমেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও পরামর্শ
পশু পুষ্টিবিদ ডঃ অনির্বাণ সেনগুপ্ত জানান,