নয়ডা: নয়ডার সেক্টর ৭৫-এর একটি বহুতলের ১২ তলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার সকালে আইভি কাউন্টি নামক আবাসিক সোসাইটির ওই ফ্ল্যাটে আগুন লাগার পর দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও দমকলের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ঘটে নয়ডার সেক্টর ৭৫-এর আইভি কাউন্টি রেসিডেন্সিয়াল সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে। সকালবেলা হঠাৎই ফ্ল্যাটটিতে আগুন দেখতে পান বাসিন্দারা। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ১২ তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা এবং গোটা সোসাইটির মানুষ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। দমকলকর্মীরা দ্রুত আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং আধিকারিকদের দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ পরিচালনা এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
একই দিনে, নয়ডার সেক্টর ৭৫ থেকে প্রায় ১৫ মিনিটের দূরত্বে সেক্টর ৫২-র শতাব্দী বিহারের একটি পেয়িং গেস্ট হাউসেও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আধিকারিকদের সূত্রে জানা গেছে, ভবনটির নিচতলায় একটি রেস্তোরাঁ রয়েছে এবং উপরের তলাগুলি পেয়িং গেস্ট সুবিধা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এই ঘটনায় দমকলের দুটি ইঞ্জিন পাঠানো হয়েছিল। এখানেও আগুন লাগার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
এই ঘটনাগুলি সম্প্রতি দিল্লিতে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের স্মৃতি উস্কে দিয়েছে। গত বুধবার সকালে দিল্লির মালব্যনগরে একটি পাঁচতলা হোটেলের বেসমেন্টে আগুন লেগে মুহূর্তের মধ্যে তা পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ঘটনায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছিল এবং অনেকে আহত হয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বুধবার সকাল প্রায় ৮টা ৫০ মিনিট নাগাদ হোটেলের বেসমেন্টে আগুন লাগে এবং দ্রুত তা উপরের তলাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় হোটেলের ভিতরে প্রায় ৪০ জন অতিথি ছিলেন বলে জানা যায়। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, অনেকেই ঘরের ভিতরে আটকে পড়েন এবং শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান। কিছু ব্যক্তি প্রাণ বাঁচাতে বিভিন্ন তলা থেকে ঝাঁপও দিয়েছিলেন।
বহুতল আবাসিক ভবনগুলিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলি প্রায়শই বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই ধরনের ঘটনাগুলি মূলত বৈদ্যুতিক ত্রুটি, রান্নার সময় অসাবধানতা, বা শর্ট সার্কিট থেকে ঘটতে পারে। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং জরুরি নির্গমন পথের অভাব এই ঝুঁকিগুলিকে আরও বাড়িয়ে তোলে। নয়ডার এই দুটি ঘটনায় কোনও প্রাণহানি না হলেও, ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসিক ভবনগুলিতে নিয়মিত ফায়ার ড্রিল এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, বাসিন্দাদেরও অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধের বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত। এই ধরনের ঘটনাগুলি নাগরিক পরিকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং শহর পরিকল্পনায় আরও কঠোর নিয়মাবলী প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
নয়ডার এই অগ্নিকাণ্ডগুলি ভবিষ্যতের জন্য একটি সতর্কবার্তা। শহরগুলিতে ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের সাথে সাথে, বিশেষ করে উচ্চ-বৃদ্ধি ভবনগুলিতে, অগ্নি নিরাপত্তা বিধিগুলি কঠোরভাবে মেনে চলা এবং নিয়মিত পরিদর্শন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।