মুল্লানপুর: ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ক্রিকেটারদের বার্ষিক আয়ের দিক থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের খেলোয়াড়দের চেয়ে অনেক এগিয়ে রেখেছে। খেলোয়াড়দের তিনটি বিভাগে ভাগ করে বার্ষিক বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও ওয়ান ডে এবং টি-টোয়েন্টির তুলনায় টেস্ট ম্যাচগুলি দীর্ঘ সময় ধরে, অর্থাৎ পাঁচ দিন ধরে চলে, তবে প্রতিটি টেস্ট ম্যাচ খেলার জন্য খেলোয়াড়দের প্রাপ্ত ম্যাচ ফি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা উল্লেখযোগ্য।
টেস্ট ম্যাচ ফি এবং বার্ষিক বেতন
একটি টেস্ট ম্যাচ খেলার জন্য ভারতীয় খেলোয়াড়রা ১৫ লক্ষ টাকা ম্যাচ ফি পান, যা দৈনিক ৩ লক্ষ টাকার সমান। এই অর্থ বিসিসিআই থেকে প্রাপ্ত বার্ষিক বেতন ছাড়াও দেওয়া হয়। বিসিসিআই-এর সেন্ট্রাল কন্ট্রাক্ট লিস্টে থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে গ্রেড এ-তে থাকা খেলোয়াড়রা বছরে ৫ কোটি টাকা, গ্রেড বি-তে থাকা ক্রিকেটাররা বছরে ৩ কোটি টাকা এবং গ্রেড সি-তে থাকা ক্রিকেটাররা বছরে ১ কোটি টাকা বেতন পান।
নতুন ইনসেনটিভ স্কিম: লাল বলের ক্রিকেটে উৎসাহ
২০২৪ সালের মার্চ মাসে, বিসিসিআই টেস্ট ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের আরও আকৃষ্ট করার জন্য একটি নতুন ইনসেনটিভ স্কিম চালু করেছে। এই স্কিমের উদ্দেশ্য হলো তরুণ খেলোয়াড়দের লাল বলের ক্রিকেটের প্রতি উৎসাহিত করা। এই ইনসেনটিভ সারা বছরে খেলা ম্যাচের সংখ্যার ভিত্তিতে প্রদান করা হয়।
ইনসেনটিভের বিস্তারিত কাঠামো
যদি একজন টেস্ট খেলোয়াড় একটি মরসুমে ৫০ শতাংশের বেশি টেস্ট ম্যাচে খেলেন, তবে প্রথম একাদশে থাকা খেলোয়াড় ৩০ লক্ষ টাকা ইনসেনটিভ পাবেন। অন্যদিকে, যদি খেলোয়াড় প্লেয়িং ইলেভেনের বাইরে থাকেন কিন্তু দলের অংশ হিসেবে ৫০ শতাংশের বেশি ম্যাচে উপস্থিত থাকেন, তবে তিনি ১৫ লক্ষ টাকা ইনসেনটিভ পাবেন।
আরও আকর্ষণীয়ভাবে, যদি কোনও খেলোয়াড় একটি মরসুমে ৭৫ শতাংশের বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলেন, তবে প্লেয়িং ইলেভেনের অন্তর্ভুক্ত খেলোয়াড় ৪৫ লক্ষ টাকা ইনসেনটিভ পাবেন। আর প্লেয়িং ইলেভেনের বাইরে থাকা খেলোয়াড়রা ২২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ইনসেনটিভ পাবেন। এর ফলে, একজন খেলোয়াড় যদি একটি মরসুমে ১০টি টেস্ট ম্যাচ খেলেন, তবে তিনি ইনসেনটিভ বাবদ ২ কোটি টাকার বেশি আয় করতে পারেন।
খেলোয়াড়দের আয় বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
এই নতুন ইনসেনটিভ স্কিম ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটারদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে। এটি তাদের দীর্ঘ ফরম্যাটের ক্রিকেটে আরও বেশি মনোনিবেশ করতে উৎসাহিত করবে। এই পদক্ষেপটি ভারতীয় ক্রিকেটের মান উন্নত করতে এবং টেস্ট ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই আর্থিক প্রণোদনা ছাড়াও, খেলোয়াড়রা ম্যাচ জয়ের বোনাস, সিরিজ জয়ের বোনাস এবং অন্যান্য পারফরম্যান্স-ভিত্তিক পুরস্কারও পেয়ে থাকেন। যা তাদের মোট আয়কে আরও বাড়িয়ে তোলে। ভবিষ্যতে, বিসিসিআই এই ধরনের স্কিমগুলির মাধ্যমে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সকে আরও পুরস্কৃত করার পথ খুলে দিতে পারে।