নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। শুক্রবার কলকাতায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে বিজেপি বিধায়কদের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীকে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে, যার ফলে তিনি রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে প্রস্তুত। আগামীকালই আনুষ্ঠানিকভাবে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে, যা দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের পথ প্রশস্ত করবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও শুভেন্দু অধিকারীর উত্থান
২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দলের সংগঠনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মতে, পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নামই ছিল সর্বসম্মত, যা তাঁর দলের অন্দরে গ্রহণযোগ্যতাকে স্পষ্ট করে তোলে।
দলের অন্দরে উচ্ছ্বাস ও প্রতিক্রিয়া
ময়নার জয়ী বিজেপি বিধায়ক অশোক ডিন্ডা শুভেন্দু অধিকারীর এই মনোনয়নকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে শুভেন্দু যেভাবে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে কর্মীদের সাহস জুগিয়েছেন, তা অতুলনীয়। ডিন্ডার মতে, শুভেন্দুর কঠোর পরিশ্রম এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণেই তিনি এই দায়িত্ব পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন।
প্রশাসন ও সংস্কারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের অগ্রাধিকারের কথা বলতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া গ্যারান্টিগুলো বাস্তবায়িত করাই হবে নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও সন্দেশখালিকাণ্ডের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোর তদন্তের জন্য কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, সরকারি তহবিল তছরুপের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হবু মুখ্যমন্ত্রী।
রাইটার্স বিল্ডিং ও প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন
নতুন সরকার পরিচালনার জন্য রাইটার্স বিল্ডিংয়ের ঐতিহ্যে ফেরার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আপাতত বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিং বা প্ল্যাটিনাম মেমোরিয়াল বিল্ডিংকে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিধানসভায় নতুন সরকারের জন্য প্রস্তুতি তুঙ্গে এবং পুরনো মন্ত্রীদের নেমপ্লেট সরিয়ে ফেলার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে, যা প্রশাসনিক পরিবর্তনের ইঙ্গিতবাহী।
ভবিষ্যতের পথে নজর
আগামী দিনগুলোতে নতুন সরকারের কর্মপদ্ধতি এবং নবান্নের পরিবর্তে রাইটার্স বিল্ডিং থেকে প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হয়, তা এখন দেখার বিষয়। রাজ্যের সাধারণ মানুষ এখন নতুন সরকারের ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে। প্রশাসনিক সংস্কার এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা নতুন সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে গণ্য হবে।