Headlines

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: ভোট গণনার ঠিক আগে স্ট্রংরুম নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: ভোট গণনার ঠিক আগে স্ট্রংরুম নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক Photo by CP Khanal on Pexels

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের ঠিক আগের মুহূর্তে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার ভোট গণনার প্রাক্কালে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত এবং পূর্ব বর্ধমান সহ একাধিক কেন্দ্রে সিসিটিভি ফুটেজ বিভ্রাট ও সন্দেহজনক গতিবিধিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা ও সিসিটিভি বিভ্রাট

বারাসাত গভর্নমেন্ট কলেজে স্থাপিত স্ট্রংরুমে প্রায় ১৭ মিনিট সিসিটিভি ফুটেজের ডিসপ্লে মনিটর বন্ধ থাকার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। অশোকনগরের তৃণমূল প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামী অভিযোগ করেন, এই ব্ল্যাক-আউটের বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে বারাসাতের সহকারী রিটার্নিং অফিসার অভিজিৎ দাস জানিয়েছেন, ডিসপ্লে মনিটরের পাওয়ার বাটন বন্ধ থাকায় সাময়িক সমস্যা হয়েছিল, যা পরে সমাধান করা হয়েছে।

বর্ধমান ও অন্যান্য কেন্দ্রে অভিযোগ

পূর্ব বর্ধমানের ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে স্ট্রংরুমের ছাদে এক ব্যক্তির রহস্যময় উপস্থিতি নিয়ে বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় দাস নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল ছাত্র পরিষদ আউশগ্রামের স্ট্রংরুমে সিসিটিভি ফুটেজ বন্ধ থাকার অভিযোগ এনেছে। জেলা নির্বাচনী দপ্তরের সাফাই, গণনার আগের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এসি ও ক্যামেরা মেরামতির কাজের জন্য কর্মীরা ছাদে উঠেছিলেন, যার তথ্য আগেই প্রার্থীদের দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

নির্বাচন কমিশনের প্রোটোকল অনুযায়ী, স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সিসিটিভি ফুটেজ ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা বাধ্যতামূলক। তবে ভোট গণনার আগের এই বিশৃঙ্খলা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। বিরোধী দলগুলি একে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করছে, অন্যদিকে শাসক দল প্রতিটি ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত দাবি করেছে। কালনা সহ বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রার্থীরা নিজেরাও স্ট্রংরুমের বাইরে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন, যা এই নির্বাচনের টানটান উত্তেজনারই প্রতিফলন।

ভবিষ্যতের প্রভাব ও নজরদারি

আগামীকালের ভোট গণনা প্রক্রিয়ায় এই অভিযোগগুলি বড় ধরণের বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রতিটি পোলিং স্টেশনের ফলাফলের বৈধতা এই স্ট্রংরুমের নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল। গণনার দিন প্রার্থীর এজেন্টরা এই বিষয়গুলিকে কীভাবে গ্রহণ করেন এবং কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *