Headlines

ভোটগণনার আগে সতর্ক তৃণমূল, ইভিএম ও পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিশেষ নির্দেশ অভিষেক-মমতার

ভোটগণনার আগে সতর্ক তৃণমূল, ইভিএম ও পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিশেষ নির্দেশ অভিষেক-মমতার Photo by CP Khanal on Pexels

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনার প্রাক্কালে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্টিং এজেন্টদের জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি করলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার কালীঘাটে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি দলীয় কর্মীদের গণনাকেন্দ্রে ভোরবেলা উপস্থিত থাকা থেকে শুরু করে ইভিএম (EVM) এবং পোস্টাল ব্যালট গণনার প্রতিটি পর্যায়ে তীক্ষ্ণ নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। দলের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল নেতৃত্ব দাবি করেছেন, এবারের নির্বাচনে তারা ২১৫টিরও বেশি আসনে জয়ী হয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে।

গণনা প্রক্রিয়ায় বিশেষ নজরদারি

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে ভোটগণনা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও, তৃণমূল নেতৃত্ব কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, গণনাকেন্দ্রে এজেন্টদের একেবারে সামনের সারিতে বসতে হবে যাতে পুরো প্রক্রিয়াটি তাদের চোখের সামনে থাকে। ইভিএমের ব্যাটারি চার্জের মাত্রার দিকে নজর দেওয়ার জন্য কর্মীদের বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার দাবি, যদি কোনো মেশিনে ৭০ শতাংশ চার্জ দেখা যায়, তবে তা নতুন হিসেবে গণ্য করে ভিভিপ্যাট (VVPAT) গণনার দাবি জানাতে হবে।

পোস্টাল ব্যালট ও ব্যবধানের রাজনীতি

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পোস্টাল ব্যালট গণনার ওপর বাড়তি গুরুত্ব আরোপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেখানে বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে জয়ের ব্যবধান খুবই কম থাকবে, সেখানে অবিলম্বে পুনরায় গণনার আবেদন জানাতে দলীয় কর্মীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সার্টিফিকেট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই গণনাকেন্দ্র ত্যাগ না করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের তরফ থেকে খাবার নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে অন্য কারো দেওয়া খাবার গ্রহণের প্রয়োজন না হয়।

বুথফেরত সমীক্ষা ও তৃণমূলের অবস্থান

দলের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল অটুট রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুথফেরত সমীক্ষা বা এক্সিট পোলকে গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, শেয়ার বাজারকে চাঙ্গা রাখতেই এই ধরনের সমীক্ষা করা হয় এবং অতীতেও তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, তৃণমূল ২০০-র বেশি আসন নিয়ে জয়লাভ করবে। যদি কোনো কেন্দ্রে বিজেপির জয়ের ব্যবধান ২০০ থেকে ৩০০ ভোটের মতো কম হয়, তবে সেখানে পুনরায় গণনার দাবি তোলার জন্য এজেন্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পর্যবেক্ষণ

ভোটগণনার এই জটিল প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর এমন সতর্কতা আগামী দিনের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে। গণনাকেন্দ্রে নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনও অতিরিক্ত অবজার্ভার নিয়োগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, ভোটগণনার দিন ইভিএমের তথ্য এবং পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কোনো আইনি বা রাজনৈতিক বিরোধ দেখা দেয় কি না। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তা এখন পর্যবেক্ষকদের মূল আলোচ্য বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *