বাংলা ক্রিকেটের কোচ নিয়োগে নজিরবিহীন স্বচ্ছতা
বাংলার সিনিয়র ক্রিকেট দল থেকে শুরু করে বয়সভিত্তিক ও মহিলা দলের কোচ নির্বাচনের জন্য প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদনপত্র আহ্বান করল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি)। ১ মে আবেদনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর সিএবি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৮০ জন প্রার্থী এই পদের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যার মধ্যে বিদেশি কোচদের অংশগ্রহণ ক্রিকেট মহলে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও পরিবর্তনের হাওয়া
অতীতে বাংলা ক্রিকেটে কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে এমন উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নজির খুব একটা ছিল না। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ভিশন ২০২০ প্রকল্পের সময় ওয়াকার ইউনিস বা মুথাইয়া মুরলীধরনের মতো কিংবদন্তিরা পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করলেও, পূর্ণকালীন কোচ হিসেবে বিদেশের কোনো বড় নামকে নিয়োগের বিষয়টি সবসময়ই ছিল অনেকটা আড়ালে। সিএবি-র এই নতুন উদ্যোগ বাংলার ক্রিকেট কাঠামোকে আধুনিক ও পেশাদার করার একটি বড় প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আবেদনকারীদের বৈচিত্র্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা
আবেদনকারীদের তালিকায় রয়েছে চমকপ্রদ সব নাম। সূত্রের খবর অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশ থেকে কোচরা আবেদন করেছেন, যা বাংলা ক্রিকেটের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ। ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিত মুখদের পাশাপাশি লক্ষ্মীরতন শুক্ল, যিনি বিগত চার বছর ধরে সিনিয়র দলের দায়িত্ব সামলেছেন, তিনিও পুনরায় চুক্তির জন্য আবেদন করেছেন। এছাড়াও ঋদ্ধিমান সাহা ও মনোজ তিওয়ারির মতো প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটারদের নামও এই তালিকায় উঠে এসেছে, যা কোচ নির্বাচনের প্রক্রিয়াটিকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করে তুলেছে।
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিশেষ কমিটি
স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, সচিব বাবলু কোলে এবং কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাসের উপস্থিতিতে একটি জরুরি বৈঠক থেকে তিন সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। অরুণ লাল, দেবাঙ্গ গাঁধী এবং কল্যাণ চৌধুরীকে নিয়ে গঠিত এই কমিটি আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেবেন। ৮ ও ৯ মে অনুষ্ঠিতব্য এই সাক্ষাৎকারে প্রার্থীদের কাছ থেকে বাংলার ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের পরিকল্পনা ও নীল নকশা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হবে।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি কেবল কোচ নির্বাচন নয়, বরং বাংলা ক্রিকেট প্রশাসনের পেশাদারিত্বের এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। স্বচ্ছতার এই বার্তা ভবিষ্যতে অন্যান্য রাজ্য সংস্থার জন্যও উদাহরণ হয়ে থাকতে পারে। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দেশীয় কোচ নাকি নতুন কোনো বিদেশি কৌশলী—কার হাতে বাংলার ক্রিকেট দলের ভার তুলে দেয় সিএবি-র এই বিশেষ কমিটি। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে, যা বাংলার পরবর্তী ক্রিকেট মরশুমের গতিপথ নির্ধারণ করবে।