নতুন মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বণ্টন
পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পরপরই রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে দফতর বণ্টন চূড়ান্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে গঠিত এই মন্ত্রিসভায় ছয়জন বিধায়ক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন, যার মধ্যে ক্রীড়া ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিশীথ প্রামাণিককে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সরকার তার প্রশাসনিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করল।
দফতর বণ্টনের বিস্তারিত চিত্র
মন্ত্রিসভার নতুন তালিকা অনুযায়ী, নিশীথ প্রামাণিক উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন ও ক্রীড়া দফতরের দায়িত্ব সামলাবেন। এর আগে ক্রীড়া মন্ত্রী হিসেবে প্রাক্তন ক্রিকেটার অশোক ডিন্দার নাম শোনা গেলেও, শেষ পর্যন্ত নিশীথ প্রামাণিককেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও অগ্নিমিত্রা পাল পেয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন এবং নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের দায়িত্ব।
দিলীপ ঘোষকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে—পঞ্চায়েত, প্রাণী সম্পদ ও কৃষি বিপণন। এছাড়াও অশোক কীর্তনিয়া খাদ্য দফতর এবং ক্ষুদিরাম টুডু আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। এই বণ্টন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলীয় অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নতুন নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা স্পষ্ট হয়েছে।
সরকারি প্রকল্প ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকার
নবান্নে ক্যাবিনেটের প্রথম বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারি প্রকল্প নিয়ে বড় ঘোষণা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আগের সরকারের চালু থাকা কোনো সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না। এই ঘোষণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে থাকা অনিশ্চয়তা দূর করার চেষ্টা করেছে নতুন সরকার।
প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষাকে বর্তমান সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।
ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ও পর্যবেক্ষণ
নতুন মন্ত্রিসভার এই দায়িত্ব বণ্টন সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন ও সীমান্ত সুরক্ষার মতো বিষয়গুলোতে সরকারের কঠোর অবস্থান আগামী দিনে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ক্রীড়া ও সামাজিক প্রকল্পের ক্ষেত্রে নতুন মন্ত্রীরা কতটা গতি আনতে পারেন, তা দেখার অপেক্ষায় রাজ্যের মানুষ। আসন্ন মাসগুলোতে এই প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।