Headlines

ভোটগণনা ঘিরে রাজনৈতিক তরজা: মমতা-ট্রাম্প তুলনা ও দিলীপ ঘোষের আশঙ্কা

ভোটগণনা ঘিরে রাজনৈতিক তরজা: মমতা-ট্রাম্প তুলনা ও দিলীপ ঘোষের আশঙ্কা Photo by Ganesh Adyapady on Pexels

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। ভোটগণনার দিন রাজ্যে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। একই সঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করে তাঁকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে বিজেপির অন্দরের কোন্দলকেই দায়ী করেছেন।

রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপট

রাজ্যের ২৯৪টি আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হতে চলেছে সোমবার। নির্বাচনের প্রচারপর্ব থেকে শুরু করে ভোটদান—প্রতিটি ধাপেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র সংঘাত দেখা গেছে। ইভিএম কারচুপি, স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা এবং সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উভয় পক্ষই নানা প্রশ্ন তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে গণনার দিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি এবং কমিশনের কড়া নজরদারি সত্ত্বেও অশান্তির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

দিলীপ ঘোষের অভিযোগ ও ট্রাম্প প্রসঙ্গ

দিলীপ ঘোষের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস পরাজয় বুঝতে পেরেই এখন থেকেই নাটক শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘যাঁরা স্বৈরাচারী মানসিকতার হন, তাঁরা পরাজয় মেনে নিতে পারেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো আচরণ করছেন। তিনি কাউন্টিং বন্ধ করে দেওয়া থেকে শুরু করে বড় ধরনের গন্ডগোল পাকাতে পারেন।’ বিজেপির এই নেতার মতে, তৃণমূলের পরাজয় এখন নিশ্চিত বলেই তাঁরা এখন মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

কুণাল ঘোষের পাল্টা জবাব

বিজেপির এই অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি মনে করেন, দিলীপ ঘোষের এই ধরনের মন্তব্যের পেছনে রয়েছে বিজেপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। কুণাল ঘোষের কথায়, ‘দিলীপ ঘোষ আসলে শুভেন্দু অধিকারী এবং দলবদলু নেতাদের আক্রমণ করছেন। রাজ্যে যারা তৎকাল বিজেপি, তাঁদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে তিনি এসব কথা বলছেন।’ তাঁর দাবি, তৃণমূলের জয়ের ব্যাপারে দল সম্পূর্ণ আশাবাদী।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব

ইভিএম বিকৃতির অভিযোগের জেরে ইতিমধ্যে একাধিক কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় এজেন্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ইভিএমের চার্জ এবং সিল নিয়ে বিশেষ নজরদারির কথা বলেছেন। এই ধরনের অতিসক্রিয়তা প্রমাণ করে যে, উভয় দলই জয়ের ব্যাপারে কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়।

ভবিষ্যতের ইঙ্গিত

সোমবারের ফল ঘোষণার দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণনার দিন বুথ সংলগ্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। উত্তেজনার পারদ যেভাবে চড়ছে, তাতে জয়ের পর বিজয় মিছিল বা হারের পর বিক্ষোভের জেরে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলায় এবং রাজনৈতিক দলগুলো গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার বজায় রাখে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *