সোশ্যাল মিডিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ছবি পোস্ট করার জেরে কলকাতা পুলিশের কালীঘাট থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) গৌতম দাসকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। নির্বাচনী আবহে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের এহেন আচরণে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানানোর পর লালবাজার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং গৌতম দাসের পরিবর্তে চামেলি মুখোপাধ্যায়কে নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক
নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পুলিশ আধিকারিকদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের নির্দিষ্ট গাইডলাইন রয়েছে। অভিযোগ, গৌতম দাস নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘নতুন অ্যাসাইনমেন্টের জন্য তৈরি’। এই পোস্টটি প্রকাশ্যে আসার পরেই বিতর্ক দানা বাঁধে, কারণ কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিক ইউনিফর্ম পরে ব্যক্তিগতভাবে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি দিতে পারেন না।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও আইনি অবস্থান
এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিলিগুড়ির বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, আইন আইনের পথেই চলবে এবং সরকারি আধিকারিকদের আইনের গণ্ডির মধ্যে থেকেই কাজ করা উচিত। অন্যদিকে, রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেছেন, পুলিশ আধিকারিকদের কাজ আইন রক্ষা করা, আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে মানুষকে ভয় দেখানো নয়। গণতন্ত্রের ঊর্ধ্বে ওঠার চেষ্টা করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
প্রশাসনের কড়া বার্তা
লালবাজারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কলকাতা পুলিশের প্রতিটি কর্মীকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের গাইডলাইন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের নালিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ছবিটি কেবল অস্বস্তিকরই নয়, বরং আইনত অত্যন্ত আপত্তিকর। পুলিশ আধিকারিকের হাতে থাকা অত্যাধুনিক অস্ত্রটি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ বা অনুমতি তাঁর ছিল কি না, তা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও নজর
এই ঘটনা রাজ্য পুলিশের অন্দরমহলে বড়সড় বার্তা দিয়েছে যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত প্রচারের ক্ষেত্রে এখন থেকে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন এবং উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা এখন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছেন। আগামী দিনে পুলিশ কর্মীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের বিধি আরও কঠোর করা হতে পারে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে ওয়াকিবহাল মহলের।