Headlines

ভোট গণনা ঘিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া বার্তা, তৃণমূল কর্মীদের রাত জাগার নির্দেশ

ভোট গণনা ঘিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া বার্তা, তৃণমূল কর্মীদের রাত জাগার নির্দেশ Photo by Mikhail Nilov on Pexels

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার প্রাক্কালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে গভীর রাতে এক বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। রবিবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা এই বার্তায় তিনি গণনাকেন্দ্রগুলোতে কারচুপির আশঙ্কার কথা তুলে ধরে দলীয় কর্মীদের সতর্ক থেকে স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

গণনায় কারচুপির আশঙ্কা ও অভিযোগ

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিংয়ের খবর আসছে। তিনি শ্রীরামপুর, কৃষ্ণনগর, আউশগ্রাম এবং কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের মতো জায়গাগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখা এবং স্ট্রংরুমের আশেপাশে সন্দেহজনক গাড়ির আনাগোনার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, বিজেপির প্ররোচনাতেই এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলে তিনি মনে করছেন।

তৃণমূল নেতৃত্বের কড়া নির্দেশ

দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউন্টিং সেন্টার থেকে যেন কেউ বেরিয়ে না আসেন। তিনি কর্মীদের সজাগ থাকতে, কোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখলে ঘিরে ধরতে এবং তাৎক্ষণিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজ দাবি করার পরামর্শ দিয়েছেন। দলীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, হাতে সার্টিফিকেট না পাওয়া পর্যন্ত যেন কেউ গণনাকেন্দ্র ত্যাগ না করেন এবং পোস্টাল ব্যালট গণনার সময় বিশেষ নজর রাখতে।

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নজরদারি

নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের এই ধরনের আশঙ্কা নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন নির্বাচনে গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে তৃণমূল নেত্রী সরব হয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জয়ের ব্যবধান কম হলে পুনর্গণনার দাবি জানানো এবং প্রতিটি ধাপ নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করা এখন তৃণমূলের রণকৌশলের মূল অংশ। এক্সিট পোলকে শেয়ার বাজার প্রভাবিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করে তিনি কর্মীদের মনোবল অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

ভবিষ্যতের প্রভাব ও পর্যবেক্ষণ

এই নির্দেশনার ফলে গণনাকেন্দ্রগুলোর বাইরে তৃণমূল কর্মীদের উপস্থিতির হার বাড়বে এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার চাপ তৈরি হবে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যখন চূড়ান্ত ফলাফল আসতে শুরু করবে, তখন এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থাগুলো কতটা কার্যকর হয় এবং নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগগুলোকে কীভাবে মোকাবিলা করে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে রাজ্য রাজনীতি। গণনার প্রতিটি পর্যায় এবং ইভিএমের সিল পরীক্ষা করার নির্দেশনার ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী সময় পর্যন্ত বজায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *