Headlines

মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’-এ চাকরিহারা শিক্ষকদের আকুতি: ‘সময় খুব কম, আমাদের কনফিডেন্সে নিন’

মুখ্যমন্ত্রীর 'জনতার দরবার'-এ চাকরিহারা শিক্ষকদের আকুতি: 'সময় খুব কম, আমাদের কনফিডেন্সে নিন' Photo by Monojit Dutta on Pexels

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ১০ দিনের মাথায় ‘জনতার দরবার’from: শুভেন্দু অধিকারী। এই অনুষ্ঠানে এসে চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষকরা তাঁদের অভাব-অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তাঁদের মধ্যে সুমন বিশ্বাস নামে এক শিক্ষক বলেন, ‘আমাদের হাতে সময় খুব কম। মুখ্যমন্ত্রী যেন আমাদের দেখে একটু কনফিডেন্সে নেন।’ বিজেপির রাজ্য দফতরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চাকরিপ্রার্থীরা তাঁদের দাবিপত্র মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে সুমন বিশ্বাস আরও বলেন, ‘আমরা সঠিক পথে আছি এবং থাকব। আমরা বর্তমান রাজ্য সরকারকে অহেতুক কোনও আন্দোলন ডেকে বিরক্ত করব না। তবে, এটাও সত্যি যে আমাদের হাতে সময় খুব কম। মুখ্যমন্ত্রী যেন আমাদের দেখে একটু কনফিডেন্সে নেন।’ তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতাজি ইনডোরে দেওয়া ‘এ-বি-সি-ডি’ ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে তিনি অনুরোধ করেন, নেতাজি ইনডোরে দেওয়া স্বপ্নের, সত্যির, বেঁচে থাকার, দুর্নীতির-বিরুদ্ধে বার্তা দিয়ে চাকরিহারাদের কনফিডেন্সে নিতে এবং বাংলার মানুষকে আশ্বস্ত করতে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মানুষের কথা শোনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং সেই কথা রাখছেন। গত সোমবার তিনি সল্টলেকের বিজেপি দফতর থেকে ‘জনতার দরবার’ শুরু করেন। সেদিন স্কুল শিক্ষক, নার্স সহ সমাজের নানা স্তরের মানুষ এসে তাঁদের অভাব-অভিযোগ জানান। বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ‘খুব ভাল রেসপন্স। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন প্রত্যেক সোমবার এখানে জনতার দরবার করবেন।’ এদিনও বহু মানুষ বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ নিয়ে ভিড় জমিয়েছেন।

বিপুল জনসমর্থন নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণের জন্য একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে। সেই তালিকায় ‘জনতার দরবার’ একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এখানে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ‘জনতা দরবার’ মডেল অনুসরণ করেই পশ্চিমবঙ্গে এই উদ্যোগ শুরু হয়েছে। যোগী আদিত্যনাথ গোরক্ষপুর বা লখনউতে নিয়মিত সাধারণ মানুষের সমস্যা শোনেন। এবার সেই পথেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনছেন।

চাকরিহারা শিক্ষকদের এই আকুতি রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নিয়োগ দুর্নীতি এবং তার জেরে চাকরি হারানো হাজার হাজার যোগ্য প্রার্থীর বিষয়টি রাজ্য রাজনীতিতে একটি বড় ইস্যু। ‘জনতার দরবার’-এ এসে তাঁদের এই আবেদন নতুন সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করেন এবং চাকরিহারাদের আশ্বাস দেন, তা এখন দেখার বিষয়।

রাজ্যের নতুন সরকার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কতটা সফল হয়, সেই দিকেই তাকিয়ে আছে আমজনতা। ‘জনতার দরবার’-এর মতো উদ্যোগগুলি সেই প্রত্যাশা পূরণের পথে কতটা সহায়ক হবে, তা সময়ই বলবে। চাকরিহারা শিক্ষক সহ বিভিন্ন পেশার মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনে মুখ্যমন্ত্রী কী পদক্ষেপ নেন, তা আগামী দিনে রাজ্যের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *