Headlines

যুবভারতীর ‘বিতর্কিত’ মূর্তির অপসারণ: রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

যুবভারতীর 'বিতর্কিত' মূর্তির অপসারণ: রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে Photo by Sarowar Hussain on Pexels

গতকাল, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সামনে থেকে হঠাৎ করেই অপসারিত হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিন্তাভাবনা থেকে তৈরি হওয়া একটি মূর্তি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে মূর্তি ভাঙার অভিযোগ এনেছে।

প্রেক্ষাপট

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের প্রবেশপথে বেশ কিছুদিন ধরেই একটি মূর্তির স্থাপন করা হয়েছিল। এই মূর্তিটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিকল্পনা ও ভাবনার ফসল বলে জানা যায়। তবে, মূর্তির নকশা নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছিল এবং এটিকে ‘অদ্ভুত’ বা ‘বিতর্কিত’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনাপ্রবাহ

ভারতীয় ফুটবল ডার্বির দিন, অর্থাৎ রবিবার, কেন্দ্রীয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক মূর্তিটি নিয়ে তাঁর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান যে মূর্তিটি ‘অদ্ভুত’ এবং এটি ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই মঙ্গলবার সকালে মূর্তিটি সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার সকালে দ্রুততার সঙ্গে মূর্তিটি অপসারণের কাজ শুরু হয়। এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। রাজ্যের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী অরূপ রায় জানিয়েছেন যে, মূর্তিটি ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং এর জন্য তিনি বিজেপি সরকারকে দায়ী করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, এটি একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক তাঁর অবস্থানে অনড়। তিনি বলেছেন যে, এই ধরনের ‘অদ্ভুত’ মূর্তি যুবভারতীর মতো একটি ঐতিহাসিক ক্রীড়াঙ্গনের সামনে থাকা উচিত নয়। তিনি আরও জানান যে, মূর্তিটি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ তিনি আগেই দিয়েছিলেন।

বিশ্লেষণ ও প্রতিক্রিয়া

এই মূর্তি অপসারণের ঘটনাটি কেবল একটি মূর্তির অপসারণ নয়, বরং এটি দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যেকার দীর্ঘদিনের বিবাদের একটি প্রতিফলন। তৃণমূল কংগ্রেস এটিকে ‘মূর্তি ভাঙা’ বলে অভিহিত করেছে, যেখানে বিজেপি এটিকে ‘অপ্রয়োজনীয় ও বেমানান’ মূর্তি অপসারণ বলে দাবি করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দেবে। উভয় পক্ষই এই ঘটনাকে নিজেদের সপক্ষে প্রচারের কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে।

ভবিষ্যৎ

এই ঘটনার পর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সামনে নতুন কোনো মূর্তির স্থাপন করা হবে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, এই ঘটনাটি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা আগামী দিনে আরও জল গড়াতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *