লখনউ: শনিবার লখনউয়ের একানা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে লখনউ সুপার জায়ান্টসের ম্যাচে এক অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে। দর্শকাসন থেকে কিছু ব্যক্তির চিয়ারলিডারদের সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগ ওঠে, যার জেরে পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে পুলিশ নামাতে হয়। এই ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর মাধ্যমে সামনে এসেছে।
ম্যাচ চলাকালীন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, একজন চিয়ারলিডার দর্শকাসনের দিকে ইশারা করে বিরক্তি প্রকাশ করছেন। তার হাবভাব দেখে মনে হচ্ছিল তিনি দর্শকাসন থেকে ভেসে আসা কোনও মন্তব্য বা আচরণের শিকার হয়েছেন। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, পুলিশ এসে দর্শকাসনে থাকা কিছু ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে বাধ্য হয়।
প্রাথমিক অনুমান, ওই দর্শকরা চিয়ারলিডারদের সঙ্গে এমন কিছু আচরণ করছিলেন যা তাদের অস্বস্তিতে ফেলেছে। এর ফলেই পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। এই ঘটনাটি লখনউয়ের একানা স্টেডিয়ামে ঘটে যাওয়া পূর্বের বিতর্কগুলির সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় ফের একবার স্টেডিয়ামটি আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। এর আগে এই মাঠেই তীব্র গরমে জল সঙ্কট এবং গ্যালারিতে সমর্থকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির মতো ঘটনা ঘটেছিল।
এই ম্যাচটি লখনউ সুপার জায়ান্টসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ তাদের প্লে-অফে ওঠার আশা তখনও টিকে ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত পাঞ্জাব কিংস সহজেই এই ম্যাচ জিতে নেয়। ১৯৭ রান তাড়া করতে নেমে অধিনায়ক প্রভসিমরন সিংয়ের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে (১০১*) ১২ বল বাকি থাকতেই সাত উইকেটে জয়লাভ করে পাঞ্জাব।
ম্যাচে লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে বোলার অর্জুন তেন্ডুলকরের ইকোনমি রেট ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম। তিনি প্রভসিমরন সিংকে আউট করতে সক্ষম হন, যদিও একটি ক্যাচ মিস হওয়ায় তিনি আরও উইকেট পেতে পারতেন। যেখানে অন্য বোলাররা প্রতি ওভারে ১০-এর বেশি রান দিয়েছেন, সেখানে অর্জুনের বোলিং ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্যাট হাতেও তিনি পাঁচ রান করেন।
ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে, পাঞ্জাব কিংসের ব্যাটিংয়ে প্রভসিমরন সিং এবং শ্রেয়স আইয়ারের মধ্যে একটি শক্তিশালী জুটি গড়ে ওঠে। প্রভসিমরন ৬৯ রান করেন, এবং শ্রেয়স আইয়ার তার আইপিএল কেরিয়ারের প্রথম শতরানটি করেন। এই দুই ব্যাটসম্যানের পার্টনারশিপ পাঞ্জাবের জয়ে মূল ভূমিকা পালন করে।
এই ধরনের ঘটনা শুধুমাত্র ক্রীড়াক্ষেত্রের পরিবেশকেই নষ্ট করে না, বরং দর্শকদের আচরণের ওপরও প্রশ্ন তোলে। প্রতিটি স্টেডিয়ামে দর্শক এবং খেলোয়াড় উভয়ের সুরক্ষার পাশাপাশি একটি সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা দেখার বিষয়।