শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক খুনের প্রতিবাদে তৃণমূল ছাড়লেন সুজয় চক্রবর্তী
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে দুষ্কৃতীদের হাতে খুনের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে হাওড়া পুরসভার প্রাক্তন প্রশাসক মণ্ডলীর চেয়ারম্যান ডঃ সুজয় চক্রবর্তী তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলেন। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ল হাওড়ার রাজনৈতিক সমীকরণে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ
ডঃ সুজয় চক্রবর্তী সাংবাদিক সম্মেলন করে দীর্ঘদিনের শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, হাওড়া পুরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় তিনি প্রশাসনিক স্তরে চরম অসহযোগিতার শিকার হয়েছিলেন। তার অভিযোগ, পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রীদের বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও পুরসভার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ করা হয়নি, যার ফলে শহরবাসীর নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে এবং কর্মীদের বেতন দেওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
তহবিল সংকট ও দলীয় অসহযোগিতা
প্রাক্তন এই প্রশাসক জানিয়েছেন, পুরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় তাকে বারবার মন্ত্রীদের দুয়ারে ধর্না দিতে হয়েছিল, যা তার কাছে ভিক্ষা চাওয়ার মতো অপমানজনক মনে হয়েছে। ববি হাকিমের মতো শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে কেবল মৌখিক আশ্বাস পাওয়া গেলেও বাস্তবে কোনো আর্থিক সহায়তা মেলেনি বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। এই আর্থিক সংকটের কারণেই গত বছরের অক্টোবর মাসে তিনি প্রশাসক মণ্ডলীর চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
গণতন্ত্র ও নির্বাচনের গুরুত্ব
সুজয় চক্রবর্তী আরও বলেন, হাওড়া পুরসভায় দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচন না হওয়ার কারণেই তৃণমূল কংগ্রেসের জনভিত্তি আলগা হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যদি সময়মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো, তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনে শাসকদলকে এমন বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না। তার মতে, গণতন্ত্রে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনই হলো জনগণের ক্ষোভ প্রশমনের একমাত্র পথ।
হত্যাকাণ্ডের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ
মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির, যা সুজয় চক্রবর্তীর দল ত্যাগের সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, বাইকে আসা দুষ্কৃতীরা চন্দ্রনাথের গাড়িতে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়, যাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় এবং অন্য এক ব্যক্তি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই শাসকদলের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। আগামী দিনে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং রাজ্য রাজনীতিতে আরও কতজন নেতা দল পরিবর্তনের পথে হাঁটেন, তা এখন দেখার বিষয়।