নয়াদিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে অনবদ্য বোলিং প্রদর্শন করল কলকাতা নাইট রাইডার্স। গত ম্যাচে জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন কেকেআর অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে। তার সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করে দিল্লির শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে মাত্র ১৪২ রানে আটকে ফেলল নাইট বোলাররা।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট এবং শুরুর দাপট
ম্যাচের শুরুতে দিল্লি ক্যাপিটালস বেশ আত্মবিশ্বাসী মেজাজেই ব্যাট করছিল। ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা এবং কেএল রাহুল পাওয়ার প্লে-তে দ্রুত রান তুলে বড় স্কোরের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। প্রথম পাঁচ ওভারের শেষে দিল্লির স্কোর ছিল ৫৫ রান, যা দেখে মনে হচ্ছিল তারা সহজেই ১৫০-১৬০ রানের গণ্ডি পার করবে।
ঘুরে দাঁড়াল কেকেআর
পঞ্চম ওভারের শেষ বলে কার্তিক ত্যাগী কেএল রাহুলকে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে দিল্লির ওপেনিং জুটি ভাঙেন। এই উইকেটের পরেই ম্যাচের মোড় ঘুরতে শুরু করে। কেকেআর অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে তার স্পিনারদের আক্রমণে নিয়ে আসেন, যা দিল্লির ব্যাটারদের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
স্পিনারদের দাপট ও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা
সুনীল নারাইন এবং অনুকূল রায়ের ঘূর্ণি জাদুতে দিল্লির মিডল অর্ডার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। সমীর রিজ়ভি মাত্র ৩ রানে আউট হওয়ার পর, সেট ব্যাটার পাথুম নিশাঙ্কা ২৯ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেই অনুকূল রায়ের শিকার হন। একই ওভারে ট্রিস্টান স্টাবসকে ফিরিয়ে অনুকূল ম্যাচ পুরোপুরি কেকেআরের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।
ব্যাট হাতে দিল্লির লড়াই
মাঝের ওভারে ৩৭টি বল বাউন্ডারিহীন থাকায় দিল্লির রানরেট অনেকটাই কমে যায়। ১৬তম ওভারে কোনোমতে শতরানের গণ্ডি পার করে দিল্লি। শেষ দিকে আশুতোষ শর্মা কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করলেও, পর্যাপ্ত সঙ্গ না পাওয়ার কারণে বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয় দিল্লি ক্যাপিটালস। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১৪২ রানেই তাদের ইনিংস শেষ হয়।
ভবিষ্যতের ইঙ্গিত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
দিল্লিকে অল্প রানে আটকে ফেলা কেকেআরের জন্য একটি বড় মানসিক স্বস্তি। বোলিংয়ের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে নাইট রাইডার্স তাদের টানা চতুর্থ জয়ের পথে অনেকখানি এগিয়ে থাকবে। এখন দেখার বিষয়, কেকেআর ব্যাটাররা এই ছোট লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে পারেন কি না।