Headlines

হরপ্পার সিলে পশুপতি নয়, রয়েছে ইউরেশীয় দেবতা’, মার্কিন ইতিহাসবিদের দাবি ঘিরে বিতর্ক

হরপ্পার সিলে পশুপতি নয়, রয়েছে ইউরেশীয় দেবতা', মার্কিন ইতিহাসবিদের দাবি ঘিরে বিতর্ক Photo by Lydia Griva on Pexels

সিন্ধু সভ্যতার নতুন ব্যাখ্যা

সম্প্রতি মার্কিন ইতিহাসবিদ রিচার্ড মিডো এবং জে.এম. কেনয়ারের গবেষণা ও পরবর্তী দাবির প্রেক্ষিতে হরপ্পা সভ্যতার বিখ্যাত ‘পশুপতি সিল’ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গবেষকদের দাবি, এই সিলটিতে যে মূর্তিকে যোগী বা শিবের আদি রূপ হিসেবে বিবেচনা করা হতো, তা আসলে কোনো ভারতীয় দেবতা নয়, বরং এটি ইউরেশীয় কোনো প্রাচীন দেবতার প্রতিকৃতি। এই চাঞ্চল্যকর দাবি প্রত্নতাত্ত্বিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

১৯২০-এর দশকে সিন্ধু সভ্যতা আবিষ্কারের পর থেকেই প্রত্নতাত্ত্বিক জন মার্শাল এই সিলটিকে ‘পশুপতি শিব’-এর প্রাচীন রূপ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। বহু দশক ধরে ভারতীয় ইতিহাসবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীরা এই সিলটিকে হিন্দু ধর্মের প্রাচীনতম ঐতিহ্যের প্রমাণ হিসেবে গণ্য করে এসেছেন। সিলটিতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি পদ্মাসনে উপবিষ্ট এবং তার চারপাশে বিভিন্ন বন্যপ্রাণী অবস্থান করছে।

বিতর্কের মূল জায়গা

মার্কিন গবেষকদের নতুন তত্ত্বে দাবি করা হয়েছে যে, হরপ্পার এই সিলের সঙ্গে মেসোপটেমীয় বা প্রাচীন ইউরেশীয় সংস্কৃতির দেবতাদের সাদৃশ্য অনেক বেশি। তাদের মতে, এটি কোনো স্থানীয় ভারতীয় দেবতা নয়, বরং মধ্য এশিয়া বা নিকট প্রাচ্যের কোনো দেবতাতত্ত্বের প্রভাব হতে পারে। এই দাবিটি মূলত সিন্ধু সভ্যতার সাথে বহিঃবিশ্বের বাণিজ্যের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গভীরতাকে নির্দেশ করে।

বিশেষজ্ঞদের মত ও তথ্য

ভারতের প্রখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিকরা অবশ্য এই দাবিকে পুরোপুরি মেনে নিতে নারাজ। তারা মনে করছেন, হরপ্পার লিপির পাঠোদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। বেশ কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, এই সিলের অলঙ্করণ স্থানীয় সিন্ধু সংস্কৃতির প্রতীকী ভাষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা বাইরের সংস্কৃতির সাথে সরাসরি মেলানো যায় না।

প্রভাব ও ভবিষ্যৎ দিশা

এই বিতর্ক কেবল একটি সিলের ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সিন্ধু সভ্যতার উৎস এবং বিকাশের ইতিহাসকে নতুন করে দেখার সুযোগ তৈরি করেছে। যদি এই দাবি প্রমাণিত হয়, তবে দক্ষিণ এশিয়ার ধর্মীয় ইতিহাসের বিবর্তন নিয়ে প্রচলিত ধারণাগুলো আমূল বদলে যেতে পারে। ইতিহাসবিদরা এখন প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণের পাশাপাশি ডিএনএ বিশ্লেষণ এবং ভাষাতাত্ত্বিক তথ্যের সমন্বয়ে এই রহস্য সমাধানের চেষ্টা করছেন। আগামী দিনে সিন্ধু উপত্যকার অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সাথে এই সিলের তুলনামূলক বিশ্লেষণই নির্ধারণ করবে ভারতীয় ইতিহাসের এই অধ্যায়টি কোন দিকে মোড় নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *