জাতীয় দলে পাতিদার ও অভিজ্ঞদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে চর্চা
ভারতের প্রাক্তন ওপেনার কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত বর্তমান আইপিএল মরসুমে রজত পাতিদারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখে তাঁকে জাতীয় দলের ওয়ান ডে এবং টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নির্বাচকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বেঙ্গালুরুতে গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে কোয়ালিফায়ার ম্যাচে ৩৩ বলে ৯৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলার পর থেকেই পাতিদারকে নিয়ে ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
রজত পাতিদারের বর্তমান ফর্ম ও পরিসংখ্যান
চলতি আইপিএল মরসুমে ১৪টি ম্যাচে অংশ নিয়ে রজত পাতিদার ৪৪.১৮ গড়ে এবং ১৭৫ স্ট্রাইক রেটে মোট ৪৮৬ রান সংগ্রহ করেছেন। চাপের মুখে ব্যাট করে দলকে বড় স্কোরে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে অন্যান্য তরুণ ব্যাটারদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। বিশেষ করে গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে নবম ওভারে বিরাট কোহলি ও দেবদত্ত পাড়িক্কালের উইকেট পড়ার পর যেভাবে তিনি দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন, তা নির্বাচকদের নজর কেড়েছে।
অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয়তা
রজত পাতিদারের পাশাপাশি কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত অলরাউন্ডার ক্রুণাল পাণ্ড্য এবং অভিজ্ঞ পেসার ভুবনেশ্বর কুমারকে জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনার পক্ষেও মত দিয়েছেন। শ্রীকান্তের মতে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিজ্ঞতার গুরুত্ব অপরিসীম এবং এই দুই খেলোয়াড় তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ভারতীয় দলে ফেরার যোগ্য দাবিদার হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছেন।
ভারতীয় ক্রিকেটে এর প্রভাব
শ্রীকান্তের এই মন্তব্য ভারতীয় ক্রিকেটের সাদা বলের ফর্ম্যাটে পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। তরুণ তুর্কিদের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি অভিজ্ঞদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এখন ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে। পাতিদারের মতো আক্রমণাত্মক ব্যাটারদের দলে নেওয়া হলে তা ভারতের মিডল অর্ডার ব্যাটিংয়ে যে নতুন মাত্রা যোগ করবে, তা বলাই বাহুল্য।
ভবিষ্যতের দিকে নজর
আগামী দিনগুলোতে বিসিসিআই নির্বাচকরা এই দাবির প্রেক্ষিতে কোনো সাহসী সিদ্ধান্ত নেন কি না, তা দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা। পাতিদারের মতো ক্রিকেটাররা যদি নিয়মিত সুযোগ পান, তবে তা ভারতীয় দলের ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে। আগামী আন্তর্জাতিক সিরিজগুলোতে এই তরুণ ব্যাটারকে দলে দেখা যায় কি না এবং অভিজ্ঞ বোলাররা তাদের হারানো ছন্দ ফিরে পেয়ে নির্বাচকদের প্রভাবিত করতে পারেন কি না, সেটিই এখন বড় আলোচনার বিষয়।