হোয়াইট হাউসের কাছে গুলি, বন্দুকবাজ নিহত, আহত ২
শনিবার (আমেরিকার সময় অনুসারে) হোয়াইট হাউসের কাছে পেনসিলভেনিয়া অ্যাভিনিউ নর্থওয়েস্টে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই বন্দুকবাজের। এই ঘটনায় দুজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
ঘটনার আকস্মিকতায় হোয়াইট হাউস সংলগ্ন এলাকা কেঁপে ওঠে। গুলির শব্দ শুনে সাংবাদিকরা এবং আশেপাশের লোকজন প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান। দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ ও সিক্রেট সার্ভিস।
প্রেক্ষাপট ও ঘটনার বিস্তারিত
নিহত বন্দুকবাজের নাম নাসির বেস্ত, বয়স ২১ বছর। তিনি মেরিল্যান্ডের বাসিন্দা ছিলেন। একাধিক জায়গা দিয়ে হোয়াইট হাউসে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা আধিকারিকদের তথ্য অনুযায়ী, নাসির বেস্ত নিজেকে ‘যিশু খ্রীস্ট’ ভাবতেন এবং মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
এর আগেও তিনি আদালতের নির্দেশ অমান্য করে হোয়াইট হাউস এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। ২০২৫ সালে তাকে একবার গ্রেফতারও করা হয়েছিল। তার এই হামলার পিছনে সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট না হলেও, মানসিক অস্থিরতাকেই প্রধান কারণ হিসেবে অনুমান করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা
সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে নাসির বেস্তকে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু পথেই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
হোয়াইট হাউসের কাছে এই ধরনের ঘটনায় এফবিআই (FBI) এবং সিক্রেট সার্ভিস যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে।
সাম্প্রতিক নিরাপত্তা উদ্বেগ
এই ঘটনাটি হোয়াইট হাউস এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে সাম্প্রতিককালে ঘটা একাধিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত ঘটনার মধ্যে অন্যতম। এর আগে ৫ মে ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসের কাছে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে।
এছাড়াও, গত ২৬ এপ্রিল ওয়াশিংটনের হিল্টন হোটেলে একটি নৈশভোজ চলাকালীন গুলি চালানো হয়, যেখানে অল্পের জন্য আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রক্ষা পান। ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই পেনসিলভ্যানিয়ার একটি নির্বাচনী সভায় ভাষণ দেওয়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপর হামলা হয়, যেখানে গুলি তার কান ছুঁয়ে বেরিয়ে যায়। সেই ঘটনায় নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে আততায়ী নিহত হয়েছিল।
ভবিষ্যৎ প্রভাব
হোয়াইট হাউসের মতো একটি সুরক্ষিত স্থানে এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর আরও জোরদার পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, মানসিক সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিরাও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে আরও কঠোর নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।