Headlines

আইপিএল ২০২৬: রাজস্থান রয়্যালসের মালিকানায় বড় পরিবর্তন, মিত্তল ও পুনাওয়ালার হাত ধরল ফ্র্যাঞ্চাইজি

আইপিএল ২০২৬: রাজস্থান রয়্যালসের মালিকানায় বড় পরিবর্তন, মিত্তল ও পুনাওয়ালার হাত ধরল ফ্র্যাঞ্চাইজি Photo by Yash Patel on Pexels

চলমান আইপিএল ২০২৬ মরশুমের মাঝেই রাজস্থান রয়্যালসের মালিকানায় বড়সড় রদবদল ঘটল। ইস্পাত শিল্পপতি মিত্তল পরিবার এবং সিরাম ইনস্টিটিউটের আদার পুনাওয়ালা ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সিংহভাগ অংশীদারিত্ব কিনে নিয়েছেন। প্রায় ১.৬৫ বিলিয়ন ডলার বা ১৫,৬০০ কোটি টাকার বিনিময়ে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

চুক্তির বিস্তারিত রূপরেখা

এই বিশাল আর্থিক চুক্তির আওতায় মিত্তল পরিবার রাজস্থান রয়্যালসের ৭৫ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করেছে। অন্যদিকে, আদার পুনাওয়ালা কিনে নিয়েছেন ১৮ শতাংশ অংশীদারিত্ব। সব মিলিয়ে মোট ৯৩ শতাংশ মালিকানা এখন নতুন বিনিয়োগকারীদের হাতে। বর্তমান মালিক মনোজ বাদলের কাছে অবশিষ্ট ৭ শতাংশ শেয়ার থাকবে এবং তিনি ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে পরামর্শদাতা হিসেবে যুক্ত থাকবেন।

গ্লোবাল রয়্যালস নেটওয়ার্ক

এই চুক্তিটি কেবল আইপিএলের রাজস্থান রয়্যালস দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আওতায় দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০ (SA20) লিগের দল পার্ল রয়্যালস এবং ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের বার্বাডোজ রয়্যালসের মালিকানাও হস্তান্তরিত হয়েছে। ফলে নতুন মালিকরা বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত এই ক্রিকেট নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করলেন।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন

চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার পথে থাকলেও এখনো কিছু আইনি প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। বিসিসিআই (BCCI), কম্পিটিশন কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (CCI) এবং আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে এই লেনদেন। ২০২৬ আর্থিক বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পূর্ববর্তী ব্যর্থ প্রচেষ্টা

রাজস্থান রয়্যালসের মালিকানা পরিবর্তনের প্রচেষ্টা এবারই প্রথম নয়। এর আগে সোমানির নেতৃত্বাধীন একটি আমেরিকান কনসোর্টিয়াম ১.৬৩ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে যথাযথ যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় সেই চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। এই ব্যর্থতার পর মিত্তল ও পুনাওয়ালার সঙ্গে সফল এই চুক্তি ফ্র্যাঞ্চাইজিটির আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করল।

শিল্পের উপর প্রভাব

আইপিএলের মতো প্রিমিয়াম লিগে এই ধরনের রেকর্ড বিনিয়োগ প্রমাণ করে যে ভারতীয় ক্রিকেট ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো এখন বিশ্বমানের ব্যবসায়িক মডেলে পরিণত হয়েছে। বড় শিল্পপতিদের প্রবেশ এই খেলায় আরও বেশি পেশাদারিত্ব এবং অবকাঠামোগত উন্নতির পথ প্রশস্ত করবে। আগামী দিনে অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোও একই ধরনের বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকতে পারে কি না, সেদিকেই এখন নজর ক্রিকেট বিশ্বের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *