রবিবার আইপিএল ২০২৬-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে সাত উইকেটে পরাজিত করল কলকাতা নাইট রাইডার্স। হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করা সানরাইজার্সকে ১৬৫ রানে থামিয়ে দেয় কেকেআর বোলাররা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১০ বল বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নাইট শিবির।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি
টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নেমেছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। অন্যদিকে, টানা দুই ম্যাচ জিতে ফর্মে থাকা কেকেআর চেয়েছিল জয়ের ধারা বজায় রাখতে। পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার লড়াইয়ে দুই দলের এই মুখোমুখি সংঘর্ষ ছিল এবারের আইপিএলের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ।
বোলারদের দাপটে দিশেহারা সানরাইজার্স
ম্যাচের শুরুতে ট্র্যাভিস হেড এবং অভিষেক শর্মার ব্যাটে বিধ্বংসী সূচনা পেয়েছিল হায়দরাবাদ। নয় ওভারেই দলের স্কোর শতরানের গণ্ডি পেরিয়ে যায়। তবে বরুণ চক্রবর্তীর স্পিন ভেল্কিতে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। হেড ৬১ রানে আউট হওয়ার পর সানরাইজার্সের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে। মাত্র ৬০ রানের ব্যবধানে শেষ নয়টি উইকেট হারায় অরেঞ্জ আর্মি। কেকেআরের হয়ে বরুণ চক্রবর্তী তিনটি এবং সুনীল নারাইন দুটি উইকেট দখল করে প্রতিপক্ষকে অল্প রানে বেঁধে ফেলেন।
ব্যাটারদের পরিপক্ক ইনিংস
১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কেকেআর শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল। ফিন অ্যালেন দ্রুত ২৯ রান করে আউট হলেও দলের রানের গতি বজায় রাখেন অধিনায়ক রাহানে ও তরুণ তুর্কি অঙ্গকৃষ রঘুবংশী। অভিজ্ঞ রাহানে ৪৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন এবং রঘুবংশী ৫৯ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। শেষদিকে রিঙ্কু সিংয়ের ১১ বলে ২২ রানের ঝোড়ো ইনিংস কেকেআরকে সহজ জয় এনে দেয়।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই জয়ের ফলে কেকেআর পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল। তরুণ ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং স্পিনারদের কার্যকারিতা কেকেআর ম্যানেজমেন্টের জন্য বড় স্বস্তির খবর। তবে হায়দরাবাদের টপ অর্ডারের ব্যর্থতা এবং মিডল অর্ডারের ধস তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোর আগে বড় চিন্তার কারণ হতে পারে। আগামী ম্যাচগুলোতে কেকেআর তাদের জয়ের এই ছন্দ ধরে রাখতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।