চলতি আইপিএল মরসুমে নিজেদের অপ্রতিরোধ্য ফর্ম বজায় রেখে দিল্লি ক্যাপিটালসকে একপেশে ম্যাচে পরাজিত করল কলকাতা নাইট রাইডার্স। গত ম্যাচে দিল্লির মাটিতে আয়োজিত এই দ্বৈরথে কেকেআর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পর ফিন অ্যালেনের বিধ্বংসী শতরানের সৌজন্যে ৩৪ বল বাকি থাকতেই আট উইকেটে জয় তুলে নিয়েছে নাইটরা। এই জয়ের ফলে টানা চারটি ম্যাচে জয়লাভ করে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের আধিপত্য আরও মজবুত করল কলকাতা।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট ও দিল্লির ব্যাটিং ব্যর্থতা
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় কেকেআর। শুরু থেকেই নাইট বোলাররা দিল্লির ব্যাটারদের ওপর চাপ বজায় রাখেন। নিশাঙ্কার ব্যক্তিগত অর্ধশতরান সত্ত্বেও, কার্তিক ত্যাগী ও অন্যান্য বোলারদের দাপটে দিল্লি ক্যাপিটালস ১৫০ রানের গণ্ডিও পেরোতে ব্যর্থ হয়। কেকেআর বোলারদের এই শৃঙ্খলাপরায়ণ বোলিংই মূলত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং জয়ের মঞ্চ তৈরি করে দেয়।
অ্যালেন-গ্রিন জুটির দাপট
রান তাড়া করতে নেমে শুরুতে কিছুটা হোঁচট খেয়েছিল কেকেআর। দুর্ভাগ্যবশত রান আউট হয়ে অজিঙ্ক রাহানে ও অঙ্গকৃষ রঘুবংশী দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। মাত্র ৩২ রানে দুই উইকেট হারিয়ে দল যখন চাপে, তখন হাল ধরেন ফিন অ্যালেন ও ক্যামেরন গ্রিন। অ্যালেন শুরুতে পিচ বুঝে নেওয়ার জন্য সময় নিলেও, পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পরেই দিল্লির বোলারদের ওপর চড়াও হন।
রেকর্ড গড়া শতরান
মাত্র ৪৭ বলে বিধ্বংসী শতরান পূর্ণ করেন ফিন অ্যালেন, যা কেকেআরের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরি। তিনি এদিন দিল্লির স্পিনারদের বিরুদ্ধে বিশেষ করে আক্রমণাত্মক ছিলেন, যেখানে কুলদীপ যাদব বা বিপরাজ নিগম কেউই সেভাবে প্রভাব ফেলতে পারেননি। ক্যামেরন গ্রিন ২৭ বলে অপরাজিত ৩৩ রান করে অ্যালেনকে যোগ্য সঙ্গ দেন, যার ফলে শতাধিক রানের পার্টনারশিপ গড়ে ওঠে এবং জয় সুনিশ্চিত হয়।
শিল্পের ওপর প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
টানা চার জয়ে কেকেআর শিবির এখন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। এই জয় প্রমাণ করে যে, দলের বোলিং ইউনিট যেমন শক্তিশালী, তেমনই টপ অর্ডারে ফিন অ্যালেনের মতো ব্যাটার যেকোনো ম্যাচ একা হাতে ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। আগামী ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষ দলগুলো অ্যালেনের বিধ্বংসী ব্যাটিং রুখতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করবে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। নাইট রাইডার্স সমর্থকরা এখন তাকিয়ে আছেন পরবর্তী লড়াইয়ের দিকে, যেখানে এই ছন্দ বজায় রাখাটাই হবে দলের প্রধান চ্যালেঞ্জ।