বজ্রপাতে দুই কিশোরের মৃত্যু
পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড়ে বন্ধুর জন্মদিন পালন করতে গিয়ে বজ্রপাতে নবম শ্রেণির দুই পড়ুয়ার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার আকস্মিক কালবৈশাখী ও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির কবলে পড়ে ১৫ বছর বয়সী রূপক চৈরা ও অয়ন গোস্বামী প্রাণ হারান। ঘটনার সময় তারা আগরবাঁধের জঙ্গলে পিকনিক করছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
দুর্যোগে বিপর্যস্ত জনজীবন
মাত্র দুই মিনিটের তীব্র ঝড়ে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে বিভিন্ন জায়গায় গাছ উপড়ে পড়া, বিদ্যুৎবাহী তার ছিঁড়ে আগুন লাগা এবং পরিকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আবহাওয়া দপ্তরের তরফ থেকে দক্ষিণবঙ্গের নয়টি জেলায় ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির জন্য ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
কলকাতার আউট্রাম ঘাট এলাকায় আম কুড়াতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মেটিয়াব্রুজের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। স্টেশনের ওভারহেড তারের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় আগুন ধরে যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। আলিপুর সিএমআরআই (CMRI) হাসপাতাল চত্বরেও গাছ উপড়ে পড়ে অন্তত তিনজন জখম হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি
তীব্র ঝড়ের ঝাপটায় প্রেসিডেন্সি জেলের পাঁচিলের একাংশ ভেঙে পড়েছে, যদিও দ্রুত বন্দিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এছাড়া আলিপুর পুলিশ কোর্টের শেড দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে এবং আমহার্স্ট স্ট্রিটসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় জল জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। পৌরসভা ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তা থেকে গাছ সরানোর কাজ শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞের সতর্কতা ও প্রভাব
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ অক্ষরেখার প্রভাবে এই ধরনের কালবৈশাখী আরও কিছুদিন সক্রিয় থাকতে পারে। বজ্রপাত থেকে বাঁচতে খোলা মাঠ বা গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলিকে দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে জরুরি পরিষেবা বজায় রাখতে বাড়তি নজরদারি চালাতে হচ্ছে।
সামনের দিনগুলোতে কী হতে পারে
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টা দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা বজায় রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে না দাঁড়ানোর জন্য সতর্ক করা হয়েছে। জনজীবন স্বাভাবিক করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ পরিষেবা পুনরায় চালু করতে স্থানীয় প্রশাসনকে আগামী কয়েকদিন নিরন্তর কাজ চালিয়ে যেতে হবে।