ত্রিপুরা রাজ্যের ধর্মনগর বন বিভাগের উদ্যোগে শীঘ্রই একটি শকুন সংরক্ষণ কেন্দ্র স্থাপিত হতে চলেছে। এই কেন্দ্রটি বিপন্ন প্রজাতির শকুনদের নিরাপদ আশ্রয়, পর্যাপ্ত খাদ্য এবং উপযুক্ত পরিবেশ প্রদানের মাধ্যমে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। এই উদ্যোগটি রাজ্যের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংরক্ষণ কেন্দ্রের প্রেক্ষাপট
একসময় ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শকুনদের অবাধ বিচরণ ছিল। কিন্তু গবাদি পশুর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডাইক্লোফেনাক (Diclofenac) নামক ব্যথানাশক ঔষধের ব্যবহার শকুনের সংখ্যা হ্রাসের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই ঔষধের অবশিষ্টাংশযুক্ত পশুর মৃতদেহ খেয়ে শকুনদের কিডনি বিকল হয়ে যেত এবং তারা মারা পড়ত। এছাড়াও, খাদ্য সংকট এবং আবাসস্থলের অভাবও শকুন বিলুপ্তির জন্য দায়ী।
ভারতের বন্যপ্রাণী (সুরক্ষা) আইন, ১৯৭২ অনুযায়ী শকুন একটি সুরক্ষিত প্রজাতি। এদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় বিভিন্ন রাজ্যে সংরক্ষণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ত্রিপুরা সরকারও এই বিপন্ন প্রজাতির সুরক্ষায় এগিয়ে এসেছে।
ধর্মনগরে শকুন সংরক্ষণ কেন্দ্র
ধর্মনগর বন বিভাগের অধীনে একটি উপযুক্ত স্থানে এই শকুন সংরক্ষণ কেন্দ্রটি স্থাপন করা হবে। কেন্দ্রটিতে শকুনের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। এখানে তাদের খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যেমন – প্রশিক্ষিত কর্মীর মাধ্যমে মৃত পশুর দেহ নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়া।
এই কেন্দ্রে মূলত দুটি প্রজাতির শকুন সংরক্ষণের উপর জোর দেওয়া হবে: হিমালয়ান গ্রিফন শকুন (Himalayan Griffon Vulture) এবং সিনাই শকুন (Cinereous Vulture)। এই দুটি প্রজাতিই বর্তমানে বিপন্নতার সম্মুখীন। কেন্দ্রটি শকুনদের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি সহজতর করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো দিয়ে সজ্জিত থাকবে।
বিশেষজ্ঞ মতামত ও তথ্য
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিদ ডঃ অমল রায় বলেন,