হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে গত মঙ্গলবার রাতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ২৩৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৩ রানে পরাজিত হলো পঞ্জাব কিংস। কুপার কনোলির দুর্দান্ত শতরান সত্ত্বেও পঞ্জাব কিংসের হারের হ্যাটট্রিক নিশ্চিত হয় এই ম্যাচে। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, অন্যদিকে টানা তিন ম্যাচ হেরে চাপে পঞ্জাব।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট ও পারফরম্যান্স
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই পঞ্জাব কিংস রান তাড়া করার ক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে। তবে এদিন শুরুতেই প্যাট কামিন্স ও নীতীশ কুমার রেড্ডির বোলিং তোপে ২৩ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে পঞ্জাব। এরপর মার্কাস স্টোইনিস ও কুপার কনোলি ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করলেও নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পতনে দলের ছন্দ নষ্ট হয়।
একপ্রান্ত আগলে রেখে কুপার কনোলি ৫৭ বলে নিজের শতরান পূর্ণ করেন। কিন্তু প্রথম সারির ব্যাটারদের দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফেরায় শেষ পর্যন্ত সাত উইকেটে ২০২ রানেই থেমে যায় পঞ্জাবের ইনিংস। সানরাইজার্সের হয়ে কামিন্স ও শিবাঙ্গ কুমার নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন।
সানরাইজার্সের ব্যাটিং দাপট
এর আগে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ বিধ্বংসী ব্যাটিং প্রদর্শন করে। ট্র্যাভিস হেড ও অভিষেকের দ্রুত শুরুর পর ঈশান কিষাণ ও হেনরিখ ক্লাসেনের অর্ধশতরান দলকে ২৩৫ রানের বিশাল স্কোরে পৌঁছে দেয়। ক্লাসেন অপরাজিত ৬৯ ও ঈশান কিষাণ ৫৫ রান সংগ্রহ করেন, যা পঞ্জাব বোলারদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ ও প্রভাব
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, পাওয়ার প্লে-তে অতিরিক্ত উইকেট হারিয়ে ফেলার মাসুল গুনতে হয়েছে পঞ্জাবকে। যদিও কনোলির ইনিংসটি ব্যক্তিগতভাবে অসাধারণ ছিল, কিন্তু দলের টপ অর্ডারের ব্যর্থতা বড় রান তাড়া করার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই জয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে প্লে-অফের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে দিল।
আগামী ম্যাচগুলোতে পঞ্জাব কিংসকে তাদের ব্যাটিং গভীরতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে, বিশেষ করে টপ অর্ডারের ফর্ম তাদের চিন্তার বড় কারণ। অন্যদিকে, সানরাইজার্স তাদের জয়ের ধারা বজায় রাখতে মরিয়া থাকবে। লিগ টেবিলের সমীকরণ এখন যেদিকে মোড় নিয়েছে, তাতে প্রতিটি ম্যাচই এখন নক-আউট পর্যায়ের গুরুত্ব বহন করবে।