ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক এবং বিসিসিআই-এর প্রাক্তন সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সম্প্রতি কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চলা দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, তিনি কখনও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার চেষ্টা করেননি এবং ভবিষ্যতে সক্রিয় রাজনীতিতে আসার কোনও পরিকল্পনা বা ইচ্ছা তাঁর নেই। আরজি কর কাণ্ড এবং পরবর্তীকালে রাজ্যের উত্তাল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গত কয়েক বছর ধরেই বাংলার রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল যে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় হয়তো কোনও বড় রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে পারেন। বিশেষ করে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এবং বিসিসিআই সভাপতি থাকাকালীন তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বারংবার প্রশ্ন উঠেছে। তবে সৌরভ বরাবরই নিজেকে মাঠের মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছেন। সাম্প্রতিক এই বিবৃতির মাধ্যমে তিনি তাঁর অরাজনৈতিক ভাবমূর্তি আবারও জনসমক্ষে তুলে ধরলেন।
জল্পনার প্রেক্ষাপট ও দীর্ঘদিনের গুঞ্জন
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের রাজনীতিতে আসা নিয়ে জল্পনা নতুন কিছু নয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়া এবং মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হওয়া নিয়ে প্রবল আলোচনা শুরু হয়েছিল। তৎকালীন বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ সেই জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছিল। আবার অন্যদিকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁর সুসম্পর্ক সর্বজনবিদিত।
বাংলার মানুষের কাছে সৌরভ বা ‘দাদা’ অত্যন্ত আবেগপ্রবণ একটি নাম। তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা দেখে অনেকেই মনে করেছিলেন যে তিনি হয়তো প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে রাজ্যের দায়িত্ব নিতে পারেন। কিন্তু সৌরভের মতে, রাজনীতি এবং খেলাধুলা সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুর বিষয়। তিনি মনে করেন, যে কাজে তাঁর প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা নেই, সেখানে পা রাখা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথন ও বর্তমান পরিস্থিতি
আরজি কর হাসপাতালে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গ উত্তাল। এই পরিস্থিতিতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও চর্চা হয়েছে। এই বিপর্যয়ের পর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কোনও কথা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে সৌরভ জানান, তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত কোনও আলোচনা হয়নি। তবে নাগরিক হিসেবে তিনি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।
সৌরভ উল্লেখ করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সবসময়ই পেশাদার এবং সৌজন্যমূলক। তিনি বলেন,